
গাছ কাটায় নাম জড়াল সিদ্দিকুল্লার ভাইয়ের
শেষ আপডেট: 20 December 2024 19:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বন দফতরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শতাধিক গাছ কেটে নেওয়ার সঙ্গে নাম জড়ালো গ্রন্থাগার মন্ত্রীর ভাইয়ের। দিতে হল জরিমানা।
সবুজায়নের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার চালু করে ’সবুজশ্রী’ প্রকল্প। তবুও সবুজ ধ্বংসে লাগাম পড়েনি। এবার বন দফতরকে অন্ধকারে রেখে শতাধিক গাছ কাটার ঘটনায় নাম জড়াল খোদ রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর ভাই রহমতুল্লা চৌধুরীর। সেই খবর চাউর হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পূর্বস্থলীতে। মোটা টাকা ’জরিমানা’ দিয়ে আপাত নিষ্কৃতি পাওয়া মন্ত্রীর ভাইয়ের সাফাই,তিনি ভুল কাজ করে ফেলেছেন। কাটোয়া বন দফতর কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীর ভাইয়ের ’জরিমানা’ মেটানোর কথা স্বীকার করে নিয়েছে।
রীতিমতো তাঁবু খাটিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে গাছের পর গাছ কাটা চলছে পূর্বস্থলীর চৌরঙ্গী এলাকায়। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জায়গায় থাকা অজস্র গাছ কয়েক দিনের মধ্যে কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। তারপরেও গাছ কাটায় বিরাম পড়েনি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের পারদ চড়ে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের মাধ্যমেই নির্বিচারে গাছ কেটে নেওয়ার খবর পৌঁছয় স্থানীয় জাহান্নগর বন বিভাগে।
অভিযোগ পেয়েই বন বিভাগের কর্মীরা পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। গাছ কাটার বহর দেখে বন দফতরের কর্মীদের চোখ কপালে ওঠে। গাছ কে কাটাচ্ছে, বন দফতরের অনুমতি নিয়ে গাছ কাটা হচ্ছে কি না, এইসব বিষয়গুলি তাঁরা গাছ কাটার দায়িত্বে থাকা শ্রমিকদের কাছে জানতে চান। ওই শ্রমিকরা জাহান্নগর বন বিভাগের কর্মীদের জানায়, কাটোয়া রেঞ্জারের অনুমতির ভিত্তিতে গাছগুলি কাটা হচ্ছে। তবে অনুমতি সংক্রান্ত কোনও নথি তাঁরা দেখাতে পারেননি।
এরই মধ্যে সামনে চলে আসেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুলা চৌধুরীর ভাই রহমতুল্লা চৌধুরী। তারপরেই এলাকাবাসী থেকে শুরু করে বন বিভাগের কর্মীদের মধ্যে হুলস্থুল পড়ে যায়। এও জানা যায় তুষার ঘোষ নামে এক ব্যক্তি ওই গাছগুলির মালিক। জাহান্নগর বন বিভাগের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক জানান, ৪-৫ দিন ধরে গাছ কাটার খবর পেয়ে তিনি বন বিভাগের কর্মীদের সেখানে পাঠান। পরে তিনিও ঘটনাস্থলে যান। গাছ কাটার তিনটি মেশিন তুলে নিয়ে চলে আসেন। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেগুলি তাঁকে ফিরিয়ে দিতে হয়। মেশিন ফিরে পেয়েই লোকজন ফের গাছকাটা শুরু করে দেয়।
পরে জাহান্নগর বন বিভাগের কর্মীরা জানতে পারেন, বেআইনিভাবে গাছ কাটার ঘটনায় নেপথ্যে রয়েছেন কাটোয়ার করজগ্রামের বাসিন্দা রহমতুল্লা চৌধুরী। রহমতুল্লা মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর ভাই বলেই নাকি কাটোয়া বন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পদক্ষপ করতে অনিহা দেখিয়েছে।
জাহান্নগর বন বিভাগের কর্মীদের এই দাবি যে অমূলক নয়, তা গাছ কাটার কাজে যুক্ত কর্মীদের কথাতেও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। গাছ কাটার কাজের দায়িত্বে থাকা টুটুল শেখ স্বীকার করে নেন, গাছ কাটার কাজে তাঁদের লাগিয়েছে মন্ত্রী সিদ্দিকুলা চৌধুরীর ভাই রহমতুল্লা চৌধুরী।
সত্য জানাজানি হয়ে গিয়েছে বুঝে, রহমতুল্লা চৌধুরীও আসল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার কোনও চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন,“আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। তাই দু’দিন আগে জরিমানা বাবদ ২৪ হাজার ৪৪৭ টাকা আমি বন দফতরে মিটিয়ে এসেছি।"
কাটোয়াj রেঞ্জার শিবপ্রসাদ সিনহা জানিয়ে দেন ,“বনফতরের অনুমতি না নিয়েই গাছ কাটা হচ্ছিল। এই কারণে প্রায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।” আর পূর্বস্থলী পঞ্চায়েতের প্রধান অনিন্দিতা রায় বলেন, “বন দফতরের বিনা অনুমতিতে এই ভাবে শতাধিক গাছ কেটে ফেলাটা ঠিক কাজ হয়নি। এ নিয়ে এলাকার মানুষজন ও গাছপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।"