
উচ্ছ্বাসে ভাসছে ঋতুপর্ণ
শেষ আপডেট: 27 March 2025 13:18
চন্দন ঘোষ
পুলিশের দায়ের করা মামলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারের ঘুম ছুটলেও কোহলিকে বুকে জড়িয়ে এখনও উচ্ছ্বাসে ভাসছে ঋতুপর্ণ। আইপিএল ম্যাচ চলাকালীন ইডেনের মাঠে ঢুকে গিয়ে বিরাট কোহলিকে প্রণাম করে ধন্য ঋতুপর্ণ পাখিরা।ভগবানের আসনে স্থান দেওয়া বিরাটকে প্রণাম করার ও তাঁকে জড়িয়ে ধরার সাধ পূর্ণ করতে পেরে ঋতুপর্ণ এখনও নস্টালজিয়ায় ভাসছে। তবে পুলিশের দায়ের করা মামলায় জামিন মিললেও আদালত পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ করবে, তা ভেবেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে ঋতুপর্ণের বাবা ও দিদিরা। একইসঙ্গে সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া ঋতুপর্ণর ভবিষ্যতের কথা ভেবেও আশঙ্কিত তাঁরা।
জামালপুর থানার পাড়াতলের বাগ-কালাপাহাড় গ্রামের বাসিন্দা ঋতুপর্ণ। বাবা মহাদেব পাখিরা কিছু জমি চাষ করেন।পাশাপাশি এলাকায় তাঁর একটি ফলের দোকান রয়েছে। তাতেই কোনওমতে চলে সংসার। ইটের দেওয়ালের দু’কামরার নির্মীয়মাণ বাড়িতে মা, বাবা ও কলেজ পড়ুয়া দুই দিদির সঙ্গে থাকে ঋতুপর্ণ। মা কাকলি একজন আশা কর্মী। বুধবার তিনি বলেন, খেলা চলাকালীন ঋতুপর্ণর এইভাবে মাঠে ঢুকে পড়াটা পুলিশ ভালভাবে নেয়নি। তাই কলকাতার ময়দান থানার পুলিশ ’ক্রিমিনাল ট্রেসপাশিং’ ধারায় মামলা রুজু করে ঋতুপর্ণকে গ্রেফতার করে। ওকে থানার লকআপে দু’রাত কাটাতে হয়। পরে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালত শর্তশাপেক্ষে ওর জামিন মঞ্জুর করে।"
আদালত জামিন মঞ্জুর করার পর ঋতুপর্ণ সোমবার রাতে বাড়ি ফেরে। বুধবার নিজের বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাকলিদেবী এবং তাঁর মেয়ে রীতু জানান, জামিন মিললেও মামলা এখনও ঋতুপর্ণর ঘাড়ে ঝুলে রয়েছে।এই বিষয়টি তাঁদের খুব দুশ্চিন্তায় রেখেছে। মামলা কতদিন চলবে, পুলিশ বা আদালত ,এ নিয়ে পরবর্তীতে কঠিন কোনও পদক্ষেপ নেবে কিনা, এই ভেবেই তাঁরা এখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা পুলিশ ও আদালতের কাছে ঋতুপর্ণর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। ঋতুপর্ণকে মার্জনা করে দেওয়ার জন্য আর্তি জানিয়েছেন।
আদালত ও সবার উদ্দেশে ছেলেকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছেন ঋতুপর্ণর বাবা মহাদেব পাখিরাও। ছেলের চিন্তায় রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে তাঁর। খারাপ করেছে শরীর।
এদিকে গত শনিবারে ঘটনা নিয়ে এখনও নস্টালজিয়ার ভাসছে ঋতুপর্ণ। তাঁর ভগবান বিরাট কোহলিকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতে পেরে ও জড়িয়ে ধরতে পেরে ঋতুপর্ণ নিজেকে ধন্য মনে করছে। এলাকার মানুষের কাছেও রাতারাতি হিরো হয়ে গিয়েছেন তিনি। অনেকেই তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলছেন। পায়ে প্যাড ও গ্লাভস পরে হাতে ব্যাট ও বল নিয়ে বুধবার বিকালে বাড়ির উঠানে একাকী নিজের মনে প্র্যাক্টিস করে যাচ্ছিল ঋতুপর্ণ। সঙ্গত করছিল পাড়ারই এক খুদে। প্র্যাক্টিসের সময়েও ঋতুপর্ণর পরনে ছিল সেই একই জামা প্যান্ট। ঋতুপর্ণ বলেন ,“ভগবান বিরাট কোহলি স্যারকে আমি যখন বুকে জড়িয়ে ধরি তখন আমার পরনে ছিল হাল্কা আকাশি রঙের এই জামাটাই। আমার এই জামাটা আমার ভগবানের শরীরের স্পর্শ পেয়েছে। তাই এই জামাটা আমার কাছে অগাধ মূল্যবান। কেউ যদি কোটি কোটি টাকা দিয়ে আমার কাছ থেকে এই জামাটা নিতে চায়, তাও দেব না। এই জামাটাকে আমি আজীবন আঁকড়ে থাকব।"
খেলা চলাকালীন ইডেনের মাঠে অনধিকার প্রবেশ ঘটিয়ে বিরাট কোহলিকে প্রণাম করা ও জড়িয়ে ধরার জন্য পুলিশ কড়া ধারায় মামলা রুজু করছে। জামিন মিললেও মামলা তো এখনও চলবে, আদালতের ধার্য করে দেওয়া দিনে আদালতে গিয়ে হাজিরাও তো দিতে হবে। এসব নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে না? ঋতুপর্ণর উত্তর, “আমি কোনও অপরাধের মানসিকতা নিয়ে শনিবার ইডেনের মাঠে ঢুকিনি। আমি মাঠে ঢুকেছিলাম আমার ভগবান বিরাট কোহলি স্যারকে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেওয়ার জন্য। হ্যাঁ, আমি আবেগের বশে এমনটা করে ফেলেলেও আইনের চোখে সেটা অপরাধ। তবুও আমি আশাবাদী আমার ভগবান বিরাট কোহলি স্যার ,পুলিশ ও মাননীয় বিচারক আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।"
গত শনিবার আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে ইডেনে গিয়েছিলেন ঋতুপর্ণ। ওই দিন বিরাট কোহলিকে মাঠে স্বচক্ষে দেখে আর আবেগ চেপে রাখতে পারেননি।দর্শক আসন ছেড়ে তারের ঘেরাটোপ টপকে সোজা খেলার মাঠে ঢুকে পড়েন। বিরাট কোহলির কাছে পৌঁছে গিয়ে বিরাট কোহলির পায়ে মাথা ঠেকিয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন। প্রণাম সেরেই বিরাট কোহলিকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।