
সেতু সংস্কার
শেষ আপডেট: 14 June 2024 19:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের দাবি মেনেই নতুন রেল সেতু তৈরি হবে। যতদিন না নতুন রেল সেতু তৈরি হচ্ছে ততদিন পুরনো রেল সেতু চালু থাকবে। বহাল থাকবে যান চলাচলও।
দিন চারেক আগে রেলের পক্ষ থেকে জেলাশাসককে চিঠি দিয়ে জানানো হয় খানা জংশন রামপুরহাট লুপ লাইনের নওয়াদার ঢাল ও বনপাস স্টেশনে মধ্যে রেল সেতু ভেঙে আবার নতুন রেল সেতু নির্মাণ করা হবে। এ ব্যাপারে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসকের কাছে অনুমতি চেয়েছেন রেলের পূর্ত দফতরের ডেপুটি চিফ প্রজেক্ট ম্যানেজার (আইআরএসই) এন কে গৌরব। চিঠিতে বলা হয়েছে, রেলের সেতুটি বেশ পুরনো। একদমই সুরক্ষিত নয়। তাই সেতু ভেঙে ফের ওই জায়গায় নতুন সেতু তৈরি করা হবে। তার জন্য ১২ মাস সময় লাগবে। এই এক বছর স্থানীয় বাসিন্দাদের বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হবে।
২০১৯ সালে এই সেতুটি সংস্কার করা হয়েছিল। তখন মাত্র মাসখানেক বন্ধ ছিল রাস্তা। তাতেই এলাকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। এখন এক বছর ধরে সেতু তৈরি হলে নতুন করে ভোগান্তি বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার রেলের তিন আধিকারিক এই রেল সেতু পরিদর্শন করেন। রেলের হাওড়া ডিভিশনের সহকারী বাস্তুকার বিমলেন্দু ঘোষ, সেকশন ইঞ্জিনিয়ার সুধীর কুমার-সহ অন্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিক ও পঞ্চায়েতের জন প্রতিনিধিরা। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরেই রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরনো সেতু আপাতত ভাঙা হচ্ছে না। পুরনো সেতুর উত্তর দিকে ২০০ মিটার দূরে নতুন রেল সেতু তৈরি করা হবে। নতুন সেতু পুরোপুরি তৈরি হয়ে যাতায়াত শুরু হলে তখন পুরনো সেতু ভাঙা হবে। স্বাভাবিকভাবেই এই সিদ্ধান্তে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাপস চ্যাটার্জী বলেন, "এই সিদ্ধান্তে আমরা সকলেই খুশি। পুরনো সেতু ভেঙে ওই জায়গায় এক বছর ধরে নতুন সেতু তৈরি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়তেন।"
নওয়াদা ছাড়াও আলিগ্রাম ও দেয়াশার বাসিন্দারাও এই সেতুর উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। তাঁদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এই সেতু। এক বছর ধরে এই সেতুর উপর রাস্তা বন্ধ থাকলে কী করে তাঁরা যাতায়াত করবেন তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই সমস্যা সমাধান করল রেল। এই রেল সেতুর উপর দিয়ে গেছে ওড়গ্রাম-দিগনগর সড়ক পথ। ফলে যানবাহনের চাপ লেগেই আছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যায়। এই জন্যই রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন রেলসেতু নির্মাণের ভাবনা।