দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল ফেরাও, দাবি জোরদার হচ্ছে ক্রমশঃ। সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের (all india youth congress) পর এবার জাতীয় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়াও (এনএসইউআই) (nsui) দলের সর্বভারতীয় সভাপতি (congress president) পদে ফের রাহুল গাঁধীকে (rahul gandhi) বসানোর দাবিতে প্রস্তাব পাশ করাল তাদের দুদিনের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে। রাহুলকেই চাই, তাদের সিদ্ধান্ত। ২০১৯এর লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের ভরাডুবির দায় নিয়ে সভাপতি পদ ছাড়েন রাহুল। ইস্তফাপত্রে লেখেন, কংগ্রেসের উচিত, গাঁধী পরিবারের বাইরে কাউকে সভাপতি করা। দীর্ঘ ১৩৫ বছরের ইতিহাসে অধিকাংশ সময়ই কংগ্রেস চালিয়েছেন নেহরু-গাঁধী পরিবারের কেউ না কেউ।
‘সংকল্প’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কংগ্রেসের ছাত্র শাখা এক বিবৃতিতে বলেছে, রাহুল গাঁধী সবার আগে থাকা একজন সত্ নেতা যিনি স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে পড়ুয়াদের স্বার্থে তাদের কন্ঠস্বর জোরদার করেছেন। ছাত্রদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলি উত্থাপন করে যথেষ্ট সমর্থন সংগ্রহে সাহায্য করেছেন, গণতন্ত্র ও স্বচ্ছতার হয়ে লড়াইয়ের জন্য নানা বিষয়ে ছাত্রসমাজের ন্যয়বিচারের কথাও ভেবেছেন। ভারতের ছাত্রকসমাজের প্রতি রাহুল গাঁধীর দায়বদ্ধতাকে আমরা স্বীকার করি, যা আমাদের শক্তি দেয়। তাঁর গভীর নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, প্রাজ্ঞতার ওপর ফের আমাদের আস্থা প্রকাশ করছি, যার জোরে ভারতে সাফল্যের তুঙ্গে পৌঁছতে পারে, একটি আরও স্থায়ী, শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে পারে। সামাজিক-রাজনৈতিক শাসনের জন্য রাহুলের অভিভাবকত্ব, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে পড়ুয়ারা নিরাপদ, সুরক্ষিত বোধ করে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাহুল কংগ্রেস সভাপতি পদ ছাড়ার পর থেকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের প্রশ্নে রীতিমতো ঝড় ওঠে। একসময় কথা ওঠে, প্রিয়ঙ্কা গাঁধীকে সভাপতি পদে বসিয়ে দেখা হোক। শেষ পর্যন্ত ঘুরেফিরে সেই সনিয়া গাঁধীকেই অন্তর্বর্তী সভানেত্রী করে দল চলছে। কিন্তু তারপরও সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকেননি দলের শীর্ষ নেতাদের একাংশ। ২৩ জন সিনিয়র নেতা দাবি করেন, দলে কাঠামোগত বদল চাই, দলের রাজ্য স্তরেও পর্যন্ত ঘরোয়া নির্বাচন করতে হবে, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ গঠন করা হোক, একটি প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের মেকানিজম গড়া হোক, দলের সর্বোচ্চ স্তরে পূর্ণ সময়ের নেতৃত্ব চাই। তারপর বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়। জানুয়ারিতে হওয়া এক বৈঠকে স্থির হয়, জুনে দলে অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পূরণ করা যায়নি দেশে কোভিড ১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য।