
শেষ আপডেট: 15 October 2023 17:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: প্রতিপদে ঘট বসানো হল সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল বর্ধমানে। রবিবার রাজাদের খনন করা কৃষ্ণসায়র থেকে জল ভরা হয় ঘটে। প্রথা মেনে ঘট বসানোর মাধ্যমেই গোটা রাঢ়বঙ্গে শুরু হয়ে গেল দুর্গাপুজো।
বর্ধমানের রাজারা জন্মসূত্রে ছিলেন পাঞ্জাবী। পরে সেই পরিবারে বউ হিসেবে আসেন নানা রাজ্যের মেয়েরা। বিভিন্ন সংস্কৃতি, লোকাচারের মিশ্রণে গড়ে ওঠে পারিবারিক সংস্কৃতি। এখানে প্রতিবার প্রতিপদে শুরু হয় সর্বমঙ্গলার পুজো। দেবী দুর্গাকে এখানে সর্বমঙ্গলা রূপে পূজা করা হয়। পুজো চলবে নবমী অর্থাৎ নবরাত্রি পর্যন্ত।
এদিন সকালে পূজার্চনার পর মন্দির থেকে মায়ের রূপোর ঘট নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। ঢাক সহ বিভিন্ন বাজনা নিয়ে ঘোড়ায় টানা রথের ওপর বিশেষ ছাতার তলায় ঘট নিয়ে বসেন পুরোহিতরা। বেশ খানিকটা পথ পরিক্রমা করে শোভাযাত্রা যায় কৃষ্ণসায়রে। সেখানে মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ঘটে জল ভরেন। এরপর তা নিয়ে এসে মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।
পূর্ব বর্ধমানের সবচেয়ে প্রাচীন আর জাগ্রত বলে পরিচিত দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দির। রাজা তেজচন্দের আমলে এই মন্দির নির্মাণ হয়েছিল। মন্দির ঘিরে রয়েছে অনেক উপকথা। মন্দিরের পুরোহিত অরুণ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, রাজার আমল থেকেই মহাসমারোহে পুজো পাঠ চলে আসছে। পুজোর চারদিন দেবীর আরাধনা হয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। আগে মহিষ ও পাঁঠা বলি হত। এর আগের জেলাশাসকের উদ্যোগে এখন বলি বন্ধ। আগে সন্ধিপুজোর মহালগ্নে কামান দাগা হত। ১৯৯৭ এ বিস্ফোরণের পর থেকে সেই প্রথাও বন্ধ হয়ে যায়। তবে দেবী আরাধনা ঘিরে ভক্তদের আবেগ এখনও কমেনি এতটুকু।
পুজোর পাঁচদিন এখানে তিলধারণের জায়গা থাকে না। পায়েস, পোলাও ও মাছের টক সহ নানা উপাচারে মায়ের ভোগ দেওয়া হয়। মালসাভোগ নিতে ভক্তরা ভিড় করেন। নবমীতে কয়েক হাজার মানুষকে ভোগ বিলি করা হয়। এই পুজো দেখতে নবমী পর্যন্ত মানুষের ঢল নামে।