দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাজেহাল দেশ। ভ্যাকসিনের আকাল রাজ্যে রাজ্যে। সংক্রমণ কিছুটা কমলেও দেশে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি যখন এমন তখন সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।
মে মাসে দেশের করোনা পরিস্থিতি সম্ভবত সবচেয়ে ভয়ানক হয়েছিল। আর সেই মাসেই দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন নষ্ট হয়েছে। মোট প্রদত্ত ভ্যাকসিনের মাত্র ১৭ শতাংশ ব্যবহার করেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলি। বাকি সবটাই নষ্ট।
গত ৪ জুন কেন্দ্র সরকারের তরফে প্রেস রিলিজ করে জানানো হয়েছিল, মে মাসে সারা দেশে মোট ৭ কোটি ৪০ লক্ষ ভ্যাকসিনের ডোজ বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে সরকারি বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানই রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভ্যাকসিন গেছে মোট ১ কোটি ২৯ লক্ষ।
কিন্তু ব্যবহার করা হয়েছে কতটুকু?
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত মাসে বেসরকারি হাসপাতালে মাত্র ২২ লাখ ভ্যাকসিনের ডোজ ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ নষ্ট হয়েছে ১ কোটির বেশি ভ্যাকসিন। দেশের এই সংকটের সময় ভ্যাকসিনের এমন অপচয় উদ্বেগের বইকি।
কেন এই অপচয়? মনে করা হচ্ছে বেশি মানুষ বেসরকারি জায়গায় ভ্যাকসিন নিতে যাননি। মূলত দাম বেশি হওয়ায় এমনটা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্প মূল্যে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে। তার তুলনায় বেসরকারি হাসপাতালে দামটা অনেকটাই বেশি।
এ মাসের শুরুতে কেন্দ্র বিভিন্ন ভ্যাকসিনের দাম নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল। কোভিশিল্ডের দাম ৭৮০ টাকা, রুশ ভ্যাকসিন স্পুটনিক ভি-এর দাম ১ হাজার ১৪৫ টাকা এবং কোভ্যাকসিনের দাম স্থির করা হয়েছিল ১ হাজার ৪১০ টাকা।
গোটা বিষয়ে সরকারের ভ্যাকসিন নীতির দিকেই আঙুল তোলা হচ্ছে। যাই হোক, আপাতত নতুন ভ্যাকসিন নীতি গ্রহণ করেছে কেন্দ্র। সারা দেশে সকল নাগরিককে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে ভ্যাকসিনের অপচয় আগের চেয়ে কমবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।