দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশন (unga) বসছে চলতি সপ্তাহে। তালিবানের (taliban) আফগানিস্তান (afghanistan) দখল আলোচনায় প্রাধান্য পাবে নিঃসন্দেহে। সেখানে ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর ভাষণে কী বলবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, (pm narendra modi) তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, মৌলবাদী, চরমপন্থী ভাবনাচিন্তা (radicalisation) (extremist ideologies) মোকাবিলার কথা বলবেন তিনি, ইসলামকে (islam) রাজনৈতিক অস্ত্র (political weapon) হিসাবে ব্যবহারের মোকাবিলার কথাও থাকবে ভাষণে।
ঘটনাচক্রে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে ধর্মকে হাতিয়ার করা নিয়েই আফগানিস্তান-পাকিস্তান অঞ্চল রক্তাক্ত হয়েছে।
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন, ন্যাটো বাহিনীর সরে যাওয়া, তালিবানের ক্ষমতা পুনর্দখলের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসসিও ভুক্ত দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষবৈঠকের প্লেনারি অধিবেশনে তিনি এসসিও-কে ভারতে ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা উদার, সহনশীল, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলা সংস্থা ও ঐতিহ্যের এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ডাক দেন। উপমহাদেশে ক্রমবর্ধমান চরমপন্থা, মৌলবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রায় সব এসসিও দেশকে ডাক দেন। মৌলবাদই শান্তি, নিরাপত্তা ও আস্থায় ঘাটতির মূলে রয়েছে।
তালিবান ফেরার পর আফগান জনগণের ভাগ্য, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও আফগানিস্তানের আবার সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ নানা মহলের। কেননা তালিবানের আচরণে আগের থেকে তারা বদলেছে, এমন কোনও ইঙ্গিত নেই।
প্রধানমন্ত্রী এসসিও-র ভাষণে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। প্রথমতঃ তিনি ভারতের ইসলামি ঐতিহ্যের কথা বলেছেন, যা সহনশীল, উদার, সামগ্রিক। দ্বিতীয়তঃ ইসলামের এই চেহারা কয়েকশ বছর ধরে বহাল রয়েছে। তৃতীয়তঃ গত বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি সওয়াল করছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সফল হবে তখনই যখন সন্ত্রাসবাদকে ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে, রাজনীতির স্বার্থে ইসলামের চরমপন্থী, মৌলবাদী ভাষ্যকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠবে তার প্রগতিশীল, আলোকপ্রাপ্ত, সহনশীল চেহারা। চতুর্থতঃ তিনি ফের ভারতের সঙ্গে মধ্য এশিয়ার আধ্যাত্মিক সংযোগের কথা দুনিয়াকে মনে করিয়েছেন, যা
২০১৫র মধ্য এশিয়া সফরকালেও করেছিলেন। পঞ্চমতঃ নানা সভ্যতার অনিবার্য সংঘাতের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
এই প্রেক্ষাপটেই আফগানিস্তানকে বিচার করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর আফগান পার্লামেন্ট ভবনের উদ্বোধন বা কয়েক মাস বাদে সালমা বাঁধের সূচনায় তিনি আফগানিস্তানের উদারপন্থা, সেদেশের সুফি সাধকদের বার্তা, সাহিত্য, কবিতার দুনিয়ায় সেদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেন। এসসিও সামিটে ফের তিনি বলেন, তালিবানি জীবনযাত্রা আফগানিস্তানের জনতার পক্ষে স্বাভাবিক বা অনিবার্য, কোনওটাই নয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিবেশনেও তিনি এই বার্তাই দিতে চলেছেন।
অতীতেও সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থা মোকাবিলায় সুফিবাদের ঐতিহ্য, ইসলামের উদার বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানকে যারা নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণে, মেরুকরণ হওয়া ধর্মীয় চেহারা তুলে ধরতে ইসলামকে ব্যবহার করতে চেয়েছে।