দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডে (ইপিএফ) নথিভুক্ত চাকুরীজীবীরা জরুরি চিকিত্সায় বা হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে পিএফে গচ্ছিত মোট কর্পাস থেকে তুলতে ১ লাখ টাকা অগ্রিম তুলতে পারবেন। এজন্য নিয়ম শিথিল করার কথা জানাল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও। অ্যাডভান্স নেওয়ার আগে হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য আনুমানিক খরচের কোনও হিসাব দেখানোর প্রয়োজন হবে না বলে সার্কুলারে জানিয়েছে পিএফ কর্তৃপক্ষ। পিএফ প্রকল্পে কর্মচারীদের জরুরি মেডিকেল পরিস্থিতিতে অগ্রিম মঞ্জুর করার বিষয়টি বিবেচনা করেছে তারা। নতুন সার্কুলারে কী কী শর্তে মেডিকেল অ্যাডভান্স পাওয়া যাবে, তা জানানো হয়েছে। একটা বড় সুবিধা হল, এবার কোভিড-১৯ সংক্রান্ত চিকিত্সার ক্ষেত্রেও মিলবে অগ্রিম। সার্কুলারে বলা হয়েছে, সেন্ট্রাল সার্ভিসেস মেডিকেল অ্যাটেন্ডেন্ট নিয়মবিধির আওতাভুক্ত ও সিজিএইচএস স্কিমের সুবিধাভোগী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা অ্যাডভান্স পাওয়ার অধিকারী।
পিএফ কর্তৃপক্ষ বলেছে, প্রাণ সংশয় হওয়ার মতো অসুখের ক্ষেত্রে অনেক সময় রোগীকে জীবন বাঁচাতে জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালে সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করতে হয়। এমন অবস্থায় হাসপাতাল থেকে জানা সম্ভব হয় না, চিকিত্সায় কত খরচ হতে পারে। এমন গুরুতর সঙ্কটে থাকা রোগীদের হাসপাতালে চিকিত্সার ক্ষেত্রে পরিবারের লোকজনও যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সেখান থেকে সম্ভাব্য খরচের এস্টিমেট জানতে পারেন না। কখনও রোগীকে আইসিইউতে দিতে হয়। সেখান থেকে কখনই চিকিত্সার ব্যয় কত গিয়ে দাঁড়াবে, বোঝা সম্ভব হয় না। তাই কোভিড ১৯ সহ জীবন বিপন্ন হতে পারে, এমন রোগের চিকিত্সায় যাতে সহজে মেডিকেল অ্যাডভান্স পাওয়া যায়, সেজন্য নিয়মবিধিতে বদল হচ্ছে।
প্রথমত, রোগীকে নিয়মবিধি অনুসারে যে কোনও সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব অধিগৃহীত বা সিজিএইচএস তালিকাভুক্ত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। কোনও ইমার্জেন্সি পরিস্থিতিতে রোগী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে বিষয়টি বিবেচনার জন্য পরিবারের লোকজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারেন যাতে নিয়মে ছাড় দিয়ে খরচ হওয়া মেডিকেল বিল পরে মিটিয়ে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয়তঃ সংশ্লিষ্ট কর্মী বা পরিবারের কাউকে রোগীর হয়ে অ্যাডভান্স চেয়ে চিঠি দিতে হবে। চিকিত্সার সম্ভাব্য খরচের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে না, তবে হাসপাতাল ও রোগীর যাবতীয় তথ্য দিতে হবে।
তৃতীয়তঃ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রোগী বা তার পরিবারের সদস্যকে বা সরাসরি হাসপাতালের অ্যাকাউন্টে অগ্রিম বাবদ এক লাখ টাকা ফেলে দেবে যাতে চিকিত্সা প্রক্রিয়া চালু হয়ে যায়। যেদিন আবেদন করা হয়েছে, সেদিনই অ্যাডভান্স মঞ্জুর করতে হবে। তা যদি না হয়, তবে তার পরের প্রথম কাজের দিনই দিয়ে দিতে হবে।মহাসপাতাল খরচের কোনও আগাম এস্টিমেট দেখাতে হবে না।
চতুর্থতঃ চিকিত্সার খরচ অ্যাডভান্সের এক লাখ টাকার ওপর চলে গেলে ইপিএফও থেকে টাকা তোলার নিয়মবিধির মধ্যে পড়লে বাড়তি অ্যাডভান্সও পাওয়া যেতে পারে। তবে বাড়তি অগ্রিম মিলবে তখনই যখন চিকিত্সার এস্টিমেট জমা দেওয়া হবে এবং রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার আগে। প্রথমে যে টাকা দেওয়া হয়েছে, তা বাদ দিয়ে বাকি অ্যাডভান্স মিলবে।
পঞ্চমতঃ সংশ্লিষ্ট রোগী বা পরিবারের সদস্যকে হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে হাসপাতালের বিল জমা দিতে হবে। ইপিএফের নিয়মবিধি অনুসারে হাসপাতালের চূড়ান্ত বিলের সঙ্গে অগ্রিম বাবদ দেওয়া অর্থ অ্যাডজাস্ট করা হবে।
নতুন নিয়মবিধিতে ইপিএফও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মেম্বারের ৬ মাসের বেসিক বেতন ও ডিএ যোগ করে বা তাঁর সুদ সহ কন্ট্রিবিউশনের শেয়ার বিবেচনা করে অ্যাডভান্স তোলা যাবে।