দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাত্মা গাঁধীর (mahatma gandhi) অহিংসা নীতির (non violence) সঙ্গে আমিষ, নিরামিষ প্রসঙ্গ জুড়ে দিল পেটা ইন্ডিয়া (peta india)। পশুপ্রেমী সংগঠন বলে পরিচিত পিপল ফর দি এথিকাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিম্যালস নামে গোষ্ঠীটি আসন্ন গাঁধী জয়ন্তীর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে আবেদন করল, অহিংসার নীতির প্রতি গাঁধীর অটল আস্থাকে সম্মান জানাতে ২ অক্টোবর দিনটিকে ‘জাতীয় মাংস-মুক্ত দিবস’ (national meat-free day) ঘোষণা করা হোক।
আরও পড়ুন----জলমগ্ন নিউটাউনে অদৃশ্য মৃত্যুফাঁদ, খোলা ম্যানহোলে আড়াইঘণ্টা আটকে রইলেন মহিলা
পেটা ইন্ডিয়ার অভিমত, নিরামিষভোজী হওয়াটা গাঁধীর কাছে নৈতিক প্রশ্নের ব্যাপার ছিল। সংগঠনের ভারতীয় শাখার সিইও ডঃ মণিলাল ভালিয়াতে চিঠিতে লিখেছেন, আমাদের দেশের মানুষকে গাঁধীর নৈতিক আদর্শ অনুসরণে অনুপ্রাণিত করলে নিষ্পাপ, সরল পশু, জন্তুজানোয়ারগুলি বাচ্চাদের থেকে আলাদা হয়ে নোংরার মধ্যে খাঁচায় আটক থাকা, নির্মম ভাবে ওদের দেহাংশের জন্য হত্যা থেকে বেঁচে যাবে। শান্তিপূর্ণ নিরামিষ খাবারে উত্সাহ দেওয়া চালু হলে তা হবে গাঁধীর অসীম প্রভাবকে শ্রদ্ধা জানানোর একটা স্থায়ী পথ।
চিঠিতে পেটা ইন্ডিয়া উল্লেখ করেছে, মাংস খাওয়ার অভ্যাস ছাড়লে ক্যান্সার, হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস, স্থূলতার মতো সমস্যার ঝুঁকি কমে, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমিয়ে জলবায়ু বদলের সঙ্গে লড়তে সুবিধা হয়, এমনকী আগামী দিনে মহামারী ঠেকাতেও সাহায্য করে।
দুনিয়াজুড়ে বিপর্যয় ডেকে আনা করোনাভাইরাস মহামারীও জ্যান্ত পশু মাংসের বাজার থেকে ছড়িয়েছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞের মত। সার্স, সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লুর মতো রোগের সঙ্গেও পশুদের আটকে রেখে মাংসের জন্য মেরে ফেলার যোগ আছে বলে মনে করা হয়।
পেটা ইন্ডিয়ার ভেগান ফুডস অ্যান্ড নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট ডঃ কিরণ আহুজার মত, খাবারের থালা থেকে জন্তু জানোয়ারদের বাদ দিয়ে আমরা অন্য প্রাণীকূল, এই বিশ্ব ও আমাদের নিজেদের শরীরের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাতে পারি। প্রত্যেককে বলছি,স্বাস্থ্যকর, উদ্ভিদজাত খাবার খেয়ে প্রতিদিন মহাত্মা গাঁধীর ঐতিহ্য উদযাপন করতে পারি আমরা।