দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) (ipo) এর মাধ্যমে পেটিএম (paytm) ১৮ হাজার কোটি টাকার শেয়ার (shares) ছাড়ছে বাজারে। সাবস্ক্রিপশন (subscription) শুরু হল আজ। শেয়ার পিছু দাম ২০৮০ থেকে ২১৫০ টাকার মধ্যে পড়তে পারে। খুচরো বিনিয়োগকারীরা ন্যূনতম এক লটে ৬টি শেয়ার থেকে সর্বোচ্চ ১৫টি লটে কিনতে পারবেন। আপার প্রাইস ব্র্যান্ডে এক লট শেয়ারের দাম হবে ১২,৯০০ টাকা।
দেশের কর্পোরেট ইতিহাসে সম্ভবতঃ পেটিএমের আইপিও সবচেয়ে বড় অঙ্কের হতে চলেছে। এক দশকের বেশি সময় আগে কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড শেয়ার বেচে ১৫ হাজার কোটি টাকার ওপর তুলেছিল। সেই রেকর্ড হয়তো ভেঙে যাবে এবার।
ভারতে আইপিওর মাধ্যমে চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টিপিজি-মদতপুষ্ট নায়কা, অয়ো হোটেলস অ্যান্ড রুমস, অনলাইন বিমা এগ্রিগেটর সংস্থা পলিসিবাজার সহ ১৫৭টি কোম্পানি ১৭.২২ বিলিয়ন ডলার তুলেছে। গত বছর একই সময় পর্যন্ত ৪৯টি কোম্পানি তুলেছিল ৮.৫৪ বিলিয়ন ডলার। পেটিএম সমেত একাধিক কোম্পানি চলতি বছরে মূলধনী বাজারে তহবিল সংগ্রহে পা রেখেছে। একটা কারণ ভারতের শেয়ার বাজার রেকর্ড চড়া হয়েছে।
পেটিএমের আইপিওতে আছে ৮৩০০ কোটি টাকার একেবারে নতুন ইস্যু ও চলতি শেয়ারহোল্ডারদের অফার ফর সেল (ওএফএস) যার অর্থমূল্য ১০ হাজার কোটি টাকা। পেটিএমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা সিইও শেখর শর্মা ছাড়াও জাপানের সফট ব্যাঙ্ক, চিনের অ্যান্ট গোষ্ঠী ও আলিবাবা ও এলিভেশন ক্যাপিটালের মতো সেরা বিনিয়োগকারী আইপিওতে নিজেদের শেয়ার দিয়েছেন। আইপিও থেকে পাওয়া অর্থ বিভিন্ন কাজে লাগাতে চায় পেটিএম। নতুন শিল্প, পার্টনারশিপ, ব্যবসা অধিগ্রহণে লাগবে। এছাড়াও খরচ করা হবে কর্পোরেট সংক্রান্ত কাজকর্মে।
সিঙ্গাপুর সরকার সহ ১০০র বেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর জন্য ৮২৩৫ কোটি টাকার শেয়ার বরাদ্দ করেছে পেটিএম।
প্রায় ১ দশক আগে মোবাইল রিচার্জ করার প্ল্যাটফর্ম হিসাবে যাত্রা শুরু পেটিএমের। উবের তাদের দ্রুত পেমেন্টের মাধ্যম হিসাবে তালিকাভুক্ত করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই পেটিএমের বাড়বাড়ন্ত হয়। ২০১৬ সালে নোটবন্দি হওয়ার পর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ভারতে। সেই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে অচিরেই বড় সংস্থায় পরিণত হয় পেটিএম। তার ব্যবহার বেড়ে যায় ক্রমশঃ।