দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেয়ারনেস ক্রিম আর তার বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। চামড়ার স্বাভাবিক রং ফর্সা করার লোভ দেখিয়ে যে ব্যবসায়িক লাভের ছক কষেন নির্মাতারা, ইতিমধ্যে তা বহুবার সমালোচিত হয়েছে। সেই বিতর্কের ইতিহাসেই এবার নতুন সংযোজন।
একটি বিশেষ ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। তবে মুখের চামড়া নয়, এই বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়েছে ক্রিম মাখলে মেয়েদের ইনার থাই অর্থাৎ বিকিনি এরিয়া ফর্সা হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞাপনে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তা রীতিমতো অশ্লীল। তা নিয়েই সমালোচনায় সরব হয়েছেন নেটিজেনরা।
চামড়ার স্বাভাবিক রং আরও ফর্সা করার কথা বলে বর্ণবৈষম্যকে উস্কে দেওয়া হয়েছে এই বিজ্ঞাপনে। তার উপর দেখা গেছে, নারীর যৌনাঙ্গের কাছে এক টুকরো পেপে রেখে ক্রিমের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। জনৈক টুইটার ব্যবহারকারী বিজ্ঞাপনটি শেয়ার করে লিখেছেন, এই ক্রিম কতটা বিরক্তিকর তা লেখার এনার্জি নেই আমার। কিন্তু যেভাবে পুরো বিষয়টা উপস্থাপন করা হয়েছে তা সত্যিই অশ্লীল, অপমানজনক।
https://twitter.com/shreemiverma/status/1410213298256023558?s=20
নেটিজেনদের দাবি, ইনার থাই বা বিকিনি এরিয়ার কথা উল্লেখ করলেই কী বোঝাতে চাওয়া হচ্ছে সকলে বুঝে যায়। এর জন্য বিজ্ঞাপনী মডেলদের এভাবে অশ্লীল ভঙ্গিতে ছবি তুলতে বাধ্য করার দরকার ছিল না।
আরও এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ইনার থাই অংশে মেলানিন থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সে ব্যাপারে সতর্কতা প্রচারের বদলে ব্যক্তিগত স্বার্থে বহু ব্র্যান্ড আজকাল এই ধরণের ক্রিম তৈরি করছে। বহু মহিলাও এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন আরও 'সুন্দর' হয়ে ওঠার লোভে। এটা সত্যিই কাম্য নয়।
অনেকে আবার এই বিজ্ঞাপনে পুরুষতন্ত্রের গন্ধ পেয়েছেন। ছেলেদের এই ধরণের কাজ করতে বলা হয় না, শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রেই থাকে ফর্সা হওয়ার তাগিদ, উঠেছে সেই প্রশ্নই। নেটিজেনদের দাবি, মেয়েরা কোনও পণ্য নয় যে তাঁদের সর্বাঙ্গ ফর্সা হতে হবে, নিজেকে অশ্লীল ভাবে তুলে ধরতে হবে ক্রিমের বিজ্ঞাপনে। নারীকে যৌনতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এই বিজ্ঞাপনে, যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন নেট নাগরিকরা।