
তপন চৌধুরী। নিজস্ব চিত্র
শেষ আপডেট: 17 July 2024 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দেহের মালিক নিজেই এসে সইসাবুদ করলেন ময়নাতদন্তের কাগজে। তারপরেই হল দেহের একাংশের ময়নাতদন্ত। মঙ্গলবার নজিরবিহীন এই ঘটনা ঘটল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
৩০ জুন মেমারির দুর্গাডাঙায় বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ডানহাত কাটা যায় মেমারির হরধরপুরের বাসিন্দা তপন চৌধুরীর। আহত অবস্থায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পয়লা জুলাই এই হাসপাতালেই তাঁর হাতের অপারেশন হয়। কনুইয়ের উপর থেকে বাদ দেওয়া হয় তাঁর হাত। নির্দিষ্ট সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান তপনবাবু। হাতটি ময়নাতদন্তের জন্য রেখে দেওয়া হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নীচে একটি ঘরে ময়নাতদন্তের আগে লেখালেখি হয়। মঙ্গলবার বছর ছেচল্লিশের তপন হাজির হন সেখানে। তিনি উপস্থিত হতেই চোখ কপালে ওঠে সবার। ওই বিভাগে থাকা এক কর্মী বলেন, "রেল বা সড়ক দুর্ঘটনায় হাত পা কেটে বাদ যাওয়ার ঘটনা অনেক ঘটে। কাটা হাত পায়ের ময়নাতদন্ত হয়। অনেকেই মারা যান বা চিকিৎসার পর চলে যান। অনেকদিন পর এইরকম কাউকে পেলাম যিনি নিজেই নিজের ময়নাতদন্তে হাজির হলেন।"
তপনবাবু জানালেন, ওইদিন কলকাতা যাওয়ার জন্য মেমারি স্টেশনে আসছিলেন ট্রেন ধরতে। বাসে করে স্টেশনে আসার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, "কিছু বোঝার আগেই দেখি ডান হাত প্রায় কেটে ঝুলে গিয়েছে। অপারেশন করে সেটা বাদ গেল। আগে টোটো চালাতাম। এখন তাও বন্ধ। বাড়িতে বৃদ্ধ মা বাবা স্ত্রী এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছেলে আছে। এখন কিছু জমানো টাকা আর অন্যের সাহায্যে দিন চলছে। তাই বিমার টাকা খুব দরকার।" কিন্তু এখানেই গন্ডগোল। হাত যে কাটা গেছে এটা প্রমাণ করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট চাই। না হলে বিমার টাকা মিলছে না। তাই আবার হাসপাতালে এসেছেন নিজের কাটা হাতের ময়নাতদন্ত করাতে।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, এই ধরনের কাটা হাত-পা সহ দেহের অন্যান্য অঙ্গ কিছুদিন সংরক্ষণ করে রাখা হয়। যদি এর মধ্যে নির্দিষ্টভাবে কেউ আবেদন করেন তখন সেগুলি ময়নাতদন্ত করে পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তপন চৌধুরীও সম্প্রতি তাঁর কাটা যাওয়া হাতের ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেন। মঙ্গলবার সেই অনুযায়ী ময়নাতদন্ত হয়। তপনবাবুর দাদা দীনবন্ধু চৌধুরী বলেন, "বাড়ির একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি এখন বেকার। তাই সংসার চালানো রীতিমতো সমস্যার হয়ে গিয়েছে। এদিকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া মিলছে না বিমার টাকা। তাই আবেদন করে ময়নাতদন্ত করানো হল। এখন টাকাটা পেলেই হয়।"