
শেষ আপডেট: 26 September 2023 06:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৈলাশ বিজয়বর্গীয়কে (Kailash Vijayvargiya) সরিয়ে সুনীল বনসলকে বিজেপি বাংলায় দলের কেন্দ্রীয় অভিভাবকের দায়িত্ব দিয়েছে প্রায় দু-বছর হতে চলল। সেই থেকে বলতে গেলে লোকচক্ষুর আড়ালে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় (Madhya Pradesh BJP candidate)। মধ্যপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ফের আলোচনায় দীর্ঘদিন বাংলায় বিজেপির কোচের দায়িত্বে থাকা বিজয়বর্গীয়।
ইন্দোর-১ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে। কিন্তু এই সংবাদ বিজয়বর্গীয়র (Kailash Vijayvargiya) জন্য মোটেই সুখকর হয়নি। ভোটে লড়তে চান না, দু’দিন আগেও জানিয়েছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। তাঁর ইচ্ছাপূরণের আশ্বাসও মিলেছিল। স্বভাবতই প্রার্থী তালিকায় নাম দেখে বিস্মিত এবং হতাশ বিজেপির এই প্রবীণ নেতা। সংবাদ সংস্থাকে অকপটে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই নেতা। সেই সঙ্গে বলেছেন, ‘দল বললে তো অস্বীকার করতে পারি না।’
বাংলায় ২০১৬-র বিধানসভা ভোটের আগে কৈলাশকে এ রাজ্যের দায়িত্ব দিয়ে পাঠায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাঁর হাত ধরেই অন্য দল ভাঙিয়ে বিজেপির সংসার বড় করার কাজ শুরু হয়। তাঁর হাত ধরেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যান মুকুল রায়। সেই সময় বঙ্গ বিজেপিতে কৈলাশ-মুকুল জুটির রাজত্ব কায়েম হয়েছিল।
কৈলাশের কোচিংয়ে বাংলায় বিজেপির সাফল্য আসে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে। রাজ্যে ১৮টি আসন দখল করে পদ্ম শিবির। আবার ২০২১-এ ভরাড়ুবির জন্যও তাঁর দিকেই আঙুল তোলে বাংলার নেতৃত্ব। তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, ভিন রাজ্যের হিন্দিভাষী নেতাদের দিয়ে প্রচার করানোয় ‘বাংলা ঘরের মেয়েকে চায়’ স্লোগান প্রচার করে বাজিমাৎ করেছে তৃণমূল। বিজেপি নেতৃত্ব দুশো আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসার কথা বললেও ৭৭-এ থেমে যায় তাদের রথ।
সেই থেকে প্রচারের আলোয় না থাকা বিজয়বর্গীয়কে এবার ভিন রাজ্যে কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিজের রাজ্যে খেলোয়াড়ের ভূমিকায় নামিয়ে দিল বিজেপি। কৈলাশ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তাঁর সম্মতি ছাড়াই প্রার্থী তালিকায় নাম রাখা হয়েছে। তবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, ছেলের জায়গায় বাবাকে টিকিট দিয়ে কৈলাশকে আসলে সমঝে দিতে চেয়েছেন মোদী-শাহ-নাড্ডা জুটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কৈলাশের সম্পর্কের রসায়ন ভাল নয়। ইন্দোর শহরে কৈলাশ পুত্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ নিয়ে একবার প্রকাশ্যেই নিন্দা করেন প্রধানমন্ত্রী। দলকে বলেন ব্যবস্থা নিতে।
আরও পড়ুন: ট্রুডোর অভিযোগের জবাবে ভারতের পাশে শ্রীলঙ্কা, কী বলেছেন দ্বীপরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী