.jpeg)
শেষ আপডেট: 21 February 2025 18:50
চন্দন ঘোষ, পূর্ব বর্ধমান
কুম্ভমেলা শুরু হতেই ভিড় বাড়ছে শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাবে। ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ল্যাংচা হাব। কলকাতা থেকে বর্ধমান যাওয়ার পথে আমড়া এলাকায় অসংখ্য ল্যাংচার দোকান। একসময়কার শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসা প্রায় পুরোটাই এখানে উঠে এসেছে দু দশক আগে। সারাদিন দোকানগুলিতে ল্যাংচা কেনার ভিড়।
জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হতেই এই চেনা ছবিটা ধাক্কা খায়। গাড়ি যেতে না পারায় মানুষের আনাগোনাও কমে গিয়েছিল। তাই বিক্রিবাটাও কমে গিয়েছিল শক্তিগড়ের ল্যাংচার। কিন্তু এখন রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। তাই গাড়ির সংখ্যাও আবার বেড়ে গেছে। তার উপর এখন মহাকুম্ভের টানে প্রতিদিন হাজারে হাজারে মানুষ এ পথেই যাচ্ছেন প্রয়াগরাজে। আর যাওয়ার পথে গাড়ি থামিয়ে ল্যাংচা খাচ্ছেন তাঁরা। শক্তিগড়ের ল্য়াংচার নামেই ভিড় জমাচ্ছেন তাঁরা। প্রায় প্রতিদিনই পুণ্যার্থীরা কেউ গাড়িতে, কেউ বাসে যাচ্ছেন কুম্ভমেলায়। কেউ আবার যাচ্ছেন বেনারস বা অযোধ্যায়। গাড়ি থামিয়ে তাঁরা ঢুকে পড়ছেন দোকানে। ল্যাংচা খাচ্ছেন, নিয়েও যাচ্ছেন। তাই বিক্রিও বাড়ছে।
স্থানীয় একটি ল্যাংচার দোকানের মালিক প্রভাত ঝা বলেন, "আমাদের বিক্রিবাটা কমে গিয়েছিল অনেকটাই। এখন রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে আবার বাস-গাড়ি সব এ পথে যাচ্ছে। তাতে আমাদের দোকানের বিক্রিবাটা আবার বেড়েছে। আর প্রয়াগে কুম্ভমেলা শুরু হওয়ার পরে ল্যাংচা জোগান দিয়ে কুলানো যাচ্ছে না। বহু মানুষ এখন কুম্ভ যাওয়ার পথে বা ফেরার পথে শক্তিগড়ের ল্যাংচা খেয়ে যাচ্ছেন।"
কুম্ভযাত্রীরা তো আছেনই, পাশাপাশি শক্তিগড়ের ল্যাংচার অন্ধভক্ত যাঁরা, রাস্তার কাজ শেষ হতে তারাও ফিরে আসছেন আবার। দুর্গাপুরে বিয়েবাড়ি যাওয়ার পথে ল্যাংচা খেতে ঢুকেছেন সঞ্চিতা ঘোষ। তিনি জানালেন, যতবারই এ পথে গিয়েছেন, ল্যাংচা না খেয়ে গেছেন এমনটা মনে পড়ে না। আরেক মিষ্টিপ্রেমী কোয়েল ঘোষ আবার একটি নির্দিষ্ট দোকানের ল্যাংচার টানেই ফিরে আসেন বারবার।
গোরুর দুধের ছানা, চিনি, ময়দা,কিছু পরিমাণে সুগন্ধি চালের গুড়ো দিয়ে তৈরি হয় এই ল্যাংচা। বাকিটা কারিগরের হাতযশ। সুন্দর প্যাকিংয়ের জন্য শক্তিগড়ের মিষ্টি নিয়ে যেতে সুবিধাও হয়।