দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে শেষ পর্যন্ত সোমবার চোখের জল ফেলে ইস্তফা দিলেন বি এস ইয়েদুরাপ্পা। নিজের সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানেই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। পরে রাজ্যপাল থাওচার চাঁদ গেহলটের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি ইস্তফা গ্রহণ করেছেন।
কর্নাটকে প্রথম বিজেপি সরকার গঠন করেছিলেন ইয়েদুরাপ্পাই। ২০০৮ সালে। সেই থেকে চারবার দক্ষিণের এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদ সামলেছেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁকে ঘিরে জল্পনা চলছিল। ইস্তফার সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ৭৮ বছরের এই অভিজ্ঞ নেতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ দিয়ে তাঁর ওপর কোনওরকম চাপ ছিল না বলে জানান ইয়েদুরাপ্পা। বলেন, সিনিয়র নেতাদের তরফে আমায় কেউ চাপ দেননি। আমি স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিচ্ছি। কিন্তু তিনি যা-ই বলুন না কেন, ইয়েদুরাপ্পার বিদায়ে অসন্তুষ্ট বীরাশৈব-লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতারা। তিনি সরে যাচ্ছেন, এমন ইঙ্গিত পেয়ে গত মঙ্গলবারই বেঙ্গালুরুতে বৈঠকে বসেন বিভিন্ন মঠের প্রধানরা। বীরাশৈব-লিঙ্গায়েত গোষ্ঠী কর্নাটকের জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ, বিজেপির সবচেয়ে বড় ভোটব্যাঙ্ক। তাঁরা বৈঠক থেকে ইয়েদুরাপ্পার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। ইয়েদুরাপ্পাকে সরানোর যে কোনও প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির বড় ক্ষতি হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। গত সপ্তাহে ইয়েদুরাপ্পার সঙ্গে দেখা করেছিলেন তাঁদের বেশ কয়েকজন। তাঁদেরই অন্যতম বালেহোশুর মঠের দিঙ্গলেশ্বরা স্বামী আজ বলেন, বি এস ইয়েদুরাপ্পা যন্ত্রণা পেয়ে ইস্তফা দিয়েছেন। এতে কর্নাটক বিজেপিও চোখের জলে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে। বিজেপি ইয়েদুরাপ্পার প্রস্থানের সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখুক।
ইয়েদুরাপ্পার বিদায়ে ফের জল্পনার কেন্দ্রে লিঙ্গায়েত গোষ্ঠী। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি ছিলেন দলে ওই গোষ্ঠীর প্রতিনিধি। ঢেলে বিজেপিকে ভোট দেয় তারা। ইয়েদুরাপ্পা সরে যাওয়ার পর এবার তারা কীভাবে সাড়া দেয়, সেটাই দেখার।