দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক’দিন আগেই তৃণমূলকে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দল বলে বিঁধেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ওরা ক্ষমতার সঙ্গে থাকার জন্য পরিস্থিতি অনুযায়ী রং বদল করে। এ বার বাংলায় শাসক দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে আরও মারাত্মক অভিযোগ আনলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, “মানবাধিকারের নামে তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টির মতো দলের কিছু অতি উৎসাহী নেতা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে এমন কিছু গোষ্ঠীকে মদত দিচ্ছে, যারা সন্ত্রাসবাদী ও মাওবাদী সংগঠনগুলির বাইরের মুখ (ওভারগ্রাউন্ড ফেস)। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য মানুষের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ থেকে প্রকৃত মানবাধিকারকে রক্ষা করা।” এ প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীর সমালোচনাও করেছেন জেটলি। বলেছেন, কংগ্রেস বরাবরই সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু এ ধরনের গোষ্ঠীগুলির প্রতি রাহুল গান্ধীর মনে জায়গা রয়েছে।
কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধী সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম বলেন, 'জেহাদী ও মাওবাদীদের প্রতি রাহুল গান্ধীর সমর্থন রয়েছে, এই অভিযোগ অত্যন্ত হাস্যকর এবং অবাস্তব। কংগ্রেস এই দুই গোষ্ঠীর কঠোরভাবে বিরোধিতা করে।'
কিডনি প্রতিস্থাপনের পর এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি জেটলি। বিজেপিতে এমনিতেই জননেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল না কোনও দিনই। অসুস্থতার পরে এখন সোশ্যাল মিডিয়াই মূলত তাঁর রাজনৈতিক আক্রমণের ভূমি। তৃণমূলকে তিনি ফেসবুকে, টুইটারেই বিঁধেছেন। কাশ্মীরে পিডিপি-র সঙ্গে জোট সরকার ভেঙে দেওয়ার পরে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় নতুন উদ্যমে সেনা অভিযান শুরু হয়েছে। শুক্রবার চার জন জঙ্গিকে খতম করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। যাদের ইসলামিক স্টেটের জঙ্গি বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক পরিসরের অনেকে যখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন, তখনই জেটলি এই মন্তব্য করেছেন।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, কাশ্মীরে গত তিন মাস ধরে জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়েছে। নিরীহ মানুষ থেকে শুরু করে খবরের কাগজের সম্পাদক পর্যন্ত মারা যাচ্ছেন। এর ফলে কাশ্মীরে সাধারণ জনজীবন যেমন বিপন্ন তেমনই বিপন্ন হয়ে পড়েছে পর্যটন। তাই সেনা অভিযান জরুরি ছিল। কিন্তু মানবাধিকারের নামে কিছু নেতা প্রকারান্তরে সন্ত্রাসবাদীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে।
প্রশ্ন হল, জেটলির এই সমালোচনার মুখে পড়ে তৃণমূল কী বলছে?
বাংলায় শাসক দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা কোনও প্রতিক্রিয়াই দেব না। কারণ, আমরা জেটলি-অমিত শাহদের খেলা ধরে ফেলেছি। কাশ্মীরে জঙ্গি দমনের নামে জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে সুড়সুড়ি দিতে চাইছে বিজেপি। লোকসভা ভোটের আগে তা নিয়ে মেরুকরণের রাজনীতি করতে চাইছে। এ নিয়ে কোনও পাল্টা মন্তব্য করলেই গেরুয়া শিবির বলবে, তৃণমূল পাকিস্তানের পাশে। কিন্তু বিরোধীরা সেই ফাঁদে পা দেবে না। সংসদের বাদল অধিবেশন আসছে, সেখানে পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম বাড়া নিয়ে বিরোধীরা সরব হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ মোদী বাড়াতে পারলেন না কেন সেই প্রশ্ন তুলবে। সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে সংসদে ঘিরে ধরাই হবে কৌশল।