দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশ ল কমিশন জনসংখ্যার রাশ টেনে ধরতে ২ সন্তান নীতি কঠোর ভাবে পালনের সুপারিশ করেছে, যাতে বলা হয়েছে, দুই বা একটি বাচ্চা হলে নানা ইনসেনটিভ মিলবে, কিন্তু তার বেশি সন্তান হলে সরকারি চাকরি মিলবে না, ভোটে প্রার্থী হওয়া যাবে না। ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাবে। রবিবার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে সময় বেঁধে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা, প্রসূতি ও শিশুমৃত্যু কমানোর লক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশ জনসংখ্যা নীতি, ২০২১-২০৩০ ঘোষণা করেছেন যোগী আদিত্যনাথ। মহিলাদের সার্বিক প্রজনন হার ২০২৬ এ ২.১ ও ২০৩০ নাগাদ ১.৯ শতাংশে নামিয়ে আনাও লক্ষ্য এই জনসংখ্যা নীতির। এ ব্যাপারেই বিরোধী সমাজবাদী পার্টি (সপা) সাংসদ সফিকুর রহমান বার্কের কটাক্ষ, বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বিজেপির নির্বাচনী প্রোপাগান্ডারই অংশ উত্তরপ্রদেশ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল। জনসংখ্যা রোধে তাঁর প্রস্তাব, তাহলে বিয়ে নিষিদ্ধ করা হোক!
৪০ পৃষ্ঠার পলিসি ডকুমেন্টে বলা হয়েছে, রাজ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়, গোষ্ঠীর জনসংখ্যায় ভারসাম্য সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। সম্প্রদায়, গোষ্ঠীর মহল্লায়, যেসব জায়গায় প্রজনন হার বেশি, সেখানে ব্যাপক প্রচারও চলবে। কিন্তু বার্কের কটাক্ষ, খসড়া বিলটা ভোটের প্রোপাগান্ডা। বিজেপি সব কিছুই রাজনীতির বিচারে দেখে। শুধু ভোটে জিততে চায়, রাজ্যবাসীর স্বার্থে কোনও সিদ্ধান্ত নেয় না। উত্তরপ্রদেশে ভোট আসছে, ওরা চিন্তিত। কিন্তু আল্লাহর আশীর্বাদে ওদের জিততে দেব না আমরা। এর চেয়ে তো বিয়ে বন্ধ করা ভাল। আগামী ২০ বছর কেউ বিয়েই করবে না, কোনও বাচ্চাকাচ্চাও হবে না! আল্লাহর আইনকে যারা চ্যালেঞ্জ করবে, তারা শেষ হয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন সম্বলের সাংসদ। সেইসঙ্গে চিনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিন আরও সন্তান জন্মাতে নাগরিকদের উত্সাহ দিচ্ছে, সেখানে ভারত তার উল্টোটা করছে। বেশি জন্ম দিতে বারণ করছে। এমন এক দিন আসবে যখন দেশে লোক কমে যাবে। যুদ্ধ হলে তখন লড়াই করার লোক মিলবে কোথা থেকে?
রাজ্যে সাম্প্রতিক ব্লক পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি রিগিং করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি বিজেপি শাসিত অসমও রাজ্য সরকারের অর্থে চলা প্রকল্পের সুবিধা পেতে ২ সন্তান নীতি চালু করবে বলে ঘোষণা করেছে।