দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড ১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা রুখতে জারি নানা বিধিনিষেধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কল্যাণমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অঞ্জলি ভরদ্বাজ, হর্ষ মান্দের, জগদীপ ছোকর প্রমুখ সমাজকর্মীদের এই আবেদনের ওপর ১১ জুন রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি এম আর শাহকে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ।
মঙ্গলবার সেই রায় ঘোষণা করে দেশের সব রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এক দেশ, এক রেশন কার্ড প্রকল্প চালু করতে বলল শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ। অতিমারী যতদিন না থামছে,ততদিন কমিউনিটি কিচেন চালিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের খাওয়ানোর দায়িত্ব নিতে হবে তাদের, বলেছে বেঞ্চ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিলি করার জন্য শুকনো খাবারের বন্দোবস্ত করতেও বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রকে।
বিচারপতিরা বলেছেন, রেশন প্রকল্প গরিব নাগরিকদের কল্যাণের জন্যই। এতে পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের রাজ্যের বাইরে অন্য রাজ্যেও, যেখান তাদের রেশন কার্ড নথিভুক্ত নয়, সেখানেও নিজেদের কর্মস্থলে রেশন পাবেন। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এজন্য ন্যাশনাল ইনফর্মেটিকস সেন্টারের সাহায্যে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের নাম নথিভুক্তির জন্য একটি পোর্টাল খুলতেও কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
বলেছে, রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে একটি স্কিম চালু করে হবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে, পরিযায়ী শ্রমিকদের শুকনো খাবার বিলি করার জন্য। কোভিড ১৯ পরিস্থিতি বহাল থাকা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালাতে হবে।
গত ২৪ মে শীর্ষ আদালত অসংগঠিত শ্রমিকদের রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া খুব ধীর লয়ে চলছে বলে জানিয়েছিল।
কোভিড ১৯ সংক্রমণ ফের মাথাচাড়া দেওয়া, তার জেরে চালু বিধনিষেধের উল্লেখ করে সমাজকর্মীরা তাঁদের পিটিশনে বলেছিলেন, ২০২০র লকডাউনের সময় পরিযায়ী শ্রমিকরা যে দুর্দশায় পড়েছিলেন, তা লাগাতার আর্থিক সঙ্কটের জেরে অব্যাহত রয়েছে, বর্তমানে তা নানা নতুন বিধিনিষেধ, কার্ফু, অনেক রাজ্যে সংক্রমণ আটকাতে চালু হওয়া লকডাউনের জেরে আরও ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে।