দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিডনির (kidney) পাথর (stone) বাদ দেওয়ার কথা, কিন্তু অপারেশনের (operation) সময় ডাক্তার (doctor) বা দিকের কিডনিটাই কেটে দিলেন! ডাক্তারের এমন মারাত্মক গাফিলতির দায় নিয়ে আমদাবাদের বালাসিনোরের এক হাসপাতালকে গুজরাত স্টেট কনজিউমার রিড্রেসাল কমিশন (consumer commission) নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রোগীর আত্মীয়কে ১১.২৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ (compensation) দিতে হবে। কিডনি বাদ যাওয়ার চার মাস বাদে মারা যান রোগী।
কমিশন বলেছে, যে কোনও কর্মচারীর, এক্ষেত্রে ওই অস্ত্রোপচারকারী ডাক্তারের গাফিলতির প্রত্যক্ষ, বিপজ্জনক কাজের দায় হাসপাতালের। ক্রেতাসুরক্ষা আদালতের বক্তব্য, নিয়োগকর্তা শুধু তার নিজের ত্রুটি, গলদের জন্য দায়ী থাকেন না, কর্মচারীদের গাফিলতি, অবহেলার দায়ও তার, কেননা তা ঘটছে নিয়োগের পরিধির মধ্যেই। রেসপন্ডেন্ট সুপিরিয়র নীতি অনুসারে এই দায় বর্তায়। এর অর্থ, নিয়োগকর্তা বা মালিকের জবাবদিহি চাই। ২০১২ সাল থেকে সাড়ে সাত শতাংশ হারে সুদ দিতে হাসপাতালকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
অসহ্য পিঠের ব্যাথা, প্রসাবের সমস্যা নিয়ে ওই হাসপাতালের ডাক্তার ডঃ শিবুভাই পটেলের পরামর্শ নিয়েছিলেন খেড়া জেলার বনগ্রোহলি গ্রামের বাসিন্দা দেবেন্দ্রভাই রাভাল। সেটা ২০১১ সাল। পরীক্ষা করে দেখা যায়, রাভালের বাম কিডনিতে ১৪ এমএম আয়তনের পাথর রয়েছে। রাভাল ঠিক করেন, ওখানেই অপারেশন করাবেন। সে বছর ৩ সেপ্টেম্বর তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। তারপর রাভালের পরিবারের লোকজন ডাক্তারের কথায় হতবাক হয়ে যান। তিনি জানান, রোগীর ভালর জন্য পাথরের বদলে কিডনিটাই কেটে বাদ দিতে হয়েছে! এরপর রাভালের প্রস্রাবের সমস্যা বেড়ে যায়। তাঁকে নাদিয়াদের কিডনি হাসপাতালে ভর্তি হতে বলা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আমদাবাদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই কিছুদিন পর তিনি মারা যান। রাভালের স্ত্রী মিনাবেন জেলার ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হন। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিম সংস্থাকে রাজ্য কমিশনে তলব করে। কিন্তু এই গাফিলতির দায় কে নেবে, তা নিয়ে টানাপড়েন চলে। শেষ পর্যন্ত কমিশন স্থির করে, হাসপাতালের ইনডোর, আউটডোর রোগীদের জন্য বিমার বন্দোবস্ত আছে। কিন্তু অস্ত্রোপচার করেছেন হাসপাতালের ডাক্তার। শুধুমাত্র পাথর বাদ দেওয়ার সম্মতি দেওয়া হয়েছিল, কিডনির নয়। কিন্তু কিডনিটাই কাটা গিয়েছে। তাই এমন গাফিলতির দায় ডাক্তার, হাসপাতালেরই।