দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমরা বড়রা নাগরিক (citizen) হিসাবে যখন কর্তব্য (duty) পালন করি না, এড়িয়ে যাই, তখন ছোটরাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, দেশের যোগ্য নাগরিক হয়ে ওঠায় আমরা ব্যর্থ। যেমন সাত বছর বয়সি ধাবানি এন। কর্নাটকের মেয়ে (karnataka girl), হেগ্গানাহাল্লির সরকারি স্কুলের দ্বিতীয় ক্লাসের ছাত্রী ধাবানির মা দু বছর আগে রাস্তার খোলা গর্তে পড়ে গিয়েছিলেন। পা ভেঙেছিল তাঁর। ধাবানি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (chief minister) বাসবরাজ বোম্মাইকে ‘তাতা’ (কন্নড় ভাষায় দাদু) বলে সম্বোধন করে শহরের সব গর্ত (potholes) বুজিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে। শুধু তাই নয়, নিজের পকেট মানি থেকে জমানো সঞ্চয়ও (savings) গর্ত বোজানোয় দিতে চেয়েছে তিপতুর জেলার টুমাকুরু জেলার নির্মাণ শ্রমিক পরিবারের মেয়েটি।
সম্প্রতি পশ্চিম বেঙ্গালুরুতে এক ৬৫ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তিনচাকার গাড়িটি রাস্তায় গর্তে পড়ে উল্টে যায়। মারা যান তিনি। ঘটনাটি ছোট্ট মেয়েটিকে প্রবল ভাবে নাড়া দিয়ে যায়। এরকম যেসব পরিবারের কেউ না কেউ খানাখন্দের জেরে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের এক ভিডিওবার্তায় সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সে বলেছে, দাদু, কী করে এই পরিবারগুলি এমন স্বজন বিয়োগের ধাক্কা সামলাবে? বড় হতে হতে এমন অনেককেই ধাবানি রাস্তায় গর্তের জন্য দুর্ঘটনার শিকার হতে দেখেছে। সম্প্রতি ধাবানি একটি ছোট্ট মেয়ের ভিডিও দেখে যাতে বিদেশের বাচ্চাটিকে নিজে হাতে গর্ত ভরাট করতে দেখা যাচ্ছে। মা-বাবাকে সে বলে, তাঁদেরও এমন করা উচিত। যেহেতু শহরের আনাচে কানাচে এমন খানা খন্দে ভর্তি, তাই তার মা তাকে পরামর্শ দেন, সে বরং একটি ভিডিও বানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন করুক।
ধাবানি খেলাধূলা, নাটক, নাচ-গানবাজনা করে। পুরস্কারও পেয়েছে। কিন্তু সে ডিহাইড্রেশনে ভোগে। তার বাবা এক গ্লাস জল খেলেই ১টি করে টাকা দেন। মায়ের সাহায্যে বানানো ভিডিওতে সে বলেছে, চারদিনে ১০ গ্লাসের বেশি জল খেয়ে পাওয়া ৪০ টাকা সে জমিয়েছে। চকোলেট না কিনে সে ওই অর্থ দেবে মুখ্যমন্ত্রীকে।
ধাবানি স্বপ্ন দেখে, একদিন ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়ে সকলের থাকার বাড়ির বন্দোবস্ত করবে।