
শেষ আপডেট: 1 March 2023 14:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাতাসে এখন ভরা বসন্ত। প্রেমের মরশুমে ভালবাসা উড়ছে রংবেরং। এমন সময়েই সামনে এল, বন্ধুত্ব (friend) থেকে পিতৃত্বের (father) পথে এগিয়ে যাওয়ার এক আশ্চর্য কাহিনি। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। বন্ধু থেকে বাবা হয়ে উঠেছেন সৌগত আর মৈনাক। অন্যরকম ভালবাসার গল্পে তাঁরা জুড়ে নিয়েছেন আরও এক নতুন অধ্যায়। পিতৃত্ব।
কীভাবে বন্ধুত্বের পথ পেরিয়ে বাবা হয়েছেন তাঁরা?
মৈনাক আর সৌগত আসলে খুব সাধারণ একটা জুটি, আর পাঁচটি সমপ্রেমী যুগলের মতোই। তবে বছর দশেক আগে ওঁদের এই প্রেম যখন শুরু হয়েছিল, তখন সমাজের চোখে তা মোটেই সহজ বা স্বাভাবিক ছিল না। সম্পর্কের শুরুটা অবশ্য হয়েছিল, আর পাঁচটা সম্পর্কের মতো, বন্ধুত্ব দিয়েই। মাত্র চব্বিশ বছর বয়স থেকেই একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন মৈনাক আর সৌগত। এরপর সৌগতর বাবার ব্রেন স্ট্রোকের সময় মৈনাক আরও শক্ত ভাবে পাশে দাঁড়ান সৌগতর। মৈনাক বলেন, 'ওরকম কঠিন সময়ে আমি কী করে হাত ছাড়তাম বন্ধুর! সেই যে শক্ত হল বাঁধন, আর ছাড়া গেল না।'
পাঁচ বছর একসঙ্গে থাকতে থাকতেই নিজেদের আবিষ্কার করেন তাঁরা, গড়ে তোলেন প্রেমের সম্পর্ক। এর পরে পরিবারকেও নিজেদের সম্পর্কের কথা জানান যুগল। প্রথমে নিজেদের দিদিদের জানিয়েছিলেন দু'জনেই। সেই সময় থেকেই দিদিরা পাশে থাকলেও, দু'জনেরই মা-বাবার বছরখানেক সময় লেগেছিল বিষয়টা মেনে নিতে। এর পরে দুই পরিবার একমত হলে, ২০২০ সালে নিজেদের জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেন মৈনাক-সৌগত। ঠিক করেন তাঁদের সন্তানতকে পৃথিবীতে নিয়ে আসবেন।
কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব! দুই পুরুষ কি সন্তান জন্ম দিতে পারে? এই প্রায় অসম্ভবও সম্ভব হয়, বিজ্ঞানের কল্যাণে।
সমপ্রেমী যুগল হওয়ায় সারোগেসির উপরেই ভরসা করেছিলেন তাঁরা। সেই মতোই সমস্ত নিয়ম মেনে, দু'জনের বীর্যই স্থাপন করা হয় দুই সারোগেট মাদারের গর্ভে। যথাসময়ে দু'টি সন্তানের জন্ম দেন তাঁরা। এভাবেই ২০২১ সালে পিতৃত্বের স্বাদ পান মৈনাক-সৌগত। এ যেন এক অদ্ভুত সমাপতন। বাবার ব্রেন স্ট্রোক যেভাবে নিশ্চিত করেছিল সৌগতর জীবনে মৈনাকের থেকে যাওয়া, সেই বৃত্তই যেন সম্পূর্ণ হল তাঁদের বাবা ডাক শোনার মধ্যে দিয়ে।
সৌগত ও মৈনাক জানাচ্ছেন, 'এখন আমাদের বাবা-মা আর আমাদের সন্তানরা সবাই একসঙ্গেই থাকি। সকাল থেকে বাচ্চাদের কান্নাকাটি, মা-বাবার নাতি-নাতনি সামলানো, সব মিলিয়ে জমজমাট ব্যাপার।'
ঠিক এমন সুখই তো মৈনাক-সৌগত পেতে চেয়েছিলেন! শুধু সুখ নয়, এ যেন এক জয়ের নিশানও। ওঁরা জিতে গেছেন ভালবাসার যুদ্ধ।