দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনটি কৃষি আইনের প্রতিবাদে প্রায় এক বছর হয়ে গেল, হাজার হাজার কৃষক (farmers protest) জাতীয় সড়ক অবরোধ (national highway blocked) করে রয়েছেন। দিল্লি সীমান্তের কাছে এধরনের অবরোধ সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে পেশ হওয়া পিটিশনের শুনানিতে বিচারপতিদ্বয় সঞ্জয় কিষাণ কাউল ও এমএম সুন্দ্রেশের সুপ্রিম কোর্টের (supreme court) বেঞ্চ বলল, বিচারবিভাগীয় ফোরাম, আন্দোলন বা সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হতে পারে। কিন্তু কী করে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখা যায় এবং এটা হয়েই চলেছে। এর শেষ কোথায়? আদালত নির্ধারিত আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনের, একথা জানিয়ে শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে (centre) একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন পেশ করার সুযোগ দেয় যাতে ইউপি গেটে দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমান্ত বরাবর অবরুদ্ধ রাস্তা ফের খোলার আবেদনে কয়েকটি কৃষক ইউনিয়নকেও সামিল করা যায়। পিটিশন পেশ হলে সামনের সোমবার এর শুনানি হবে।
অবরোধের জন্য তাঁর এলাকা থেকে দিল্লি পৌঁছনোর ২০ মিনিটের রাস্তা পেরতে ২ ঘন্টা লেগে যাচ্ছে বলে জানিয়ে অবরোধ প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে পিটিশন দিয়েছেন মনিকা আগরওয়াল নামে জনৈক নয়ডাবাসী। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজের কাছে বেঞ্চ জানতে চায়, সরকার কী করছে। প্রতিবাদী কৃষকদের সঙ্গে বৈঠক ডাকা হয়েছিল এবং তার বিস্তারিত তথ্য হলফনামায় বলা আছে বলে জানান তিনি।
বেঞ্চ বলে, আমরা হয়তো আইন করে দিলাম, কিন্তু কীভাবে তা বাস্তবায়িত করবেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার। আদালত তা করতে পারে না। প্রশাসনের কাজ সেটা। প্রশাসনেরই আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব, সহমত প্রকাশ করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। বেঞ্চ তখন বলে, আমরা কোনও আইন করে দিলে আপনারা বলবেন, এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, আমরা সরকারের পরিধিতে ঢুকে পড়েছি। এর গুরুত্ব আছে। আবার এটাও ঠিক, অনেক অসন্তোষ থাকে যার মীমাংসা হওয়া দরকার। এটা স্থায়ী সমস্যা হতে পারে না। মেহতা জানান, কৃষকদের অসন্তোষ মেটাতে তিন সদস্যের কমিটি তৈরি হয়েছে। কিন্তু অসন্তুষ্ট কৃষক সমাজের প্রতিনিধিরা আলোচনায় সামিল হতে রাজি হননি। আদালত পিটিশনারকে কৃষক ইউনিয়নকে পিটিশনের পক্ষ করার অনুমতি দিন যাতে পরে তারা বলতে না পারে, এব্যাপারে তাদের সামিল করা হয়নি। বেঞ্চ তাঁকে বলে, আপনাকেই কৃষক প্রতিনিধিদের পার্টি করার আবেদন পেশ করতে হবে কেননা পিটিশনার যেহেতু একজন ব্যক্তি, তিনি নাও জানতে পারেন, কৃষকদের নেতা কারা।
গত ২৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, কেন্দ্র ও দিল্লির পড়শী রাজ্যগুলিরই কৃষকদের দিল্লি সীমান্তে অবরোধের ফলে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের সূত্র বের করা উচিত।