দ্য ওয়াল ব্যুরো : কৃষি বিল নিয়ে চাষিদের বোঝানোর জন্য বুধবার বৈঠক ডাকা হয়েছিল দিল্লিতে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষি সচিব। কিন্তু চাষিরা দাবি করেন, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরকে বৈঠকে উপস্থিত হতে হবে। তিনি আসবেন না শুনে কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। বিতর্কিত কৃষি আইনের নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলেন। তাঁরা জানান কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে।
গত বাদল অধিবেশনে সংসদে কৃষি বিল পেশ করার পরে দুই কক্ষেই তীব্র বিরোধিতার মধ্যে পড়তে হয় কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটাভুটির রাস্তায় না গিয়ে সরকার গায়ের জোরে বিল পাশ করিয়েছে। বিরোধীদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে সই না করার আবেদন জানানো হয়। তাঁদের দাবি ছিল, ওই বিল পুনর্বিবেচনার জন্য ফের.সংসদে আনা হোক।
কেন্দ্রের বক্তব্য, এই বিল কৃষকদের রোজগার দ্বিগুণ করবে। তা ছাড়া একবিংশ শতকে কৃষি ব্যবস্থায় অনেক বদল এসেছে। তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই এই বিল প্রস্তুত করা হয়েছিল। উৎপাদনেও ইতিবাচক বদল হবে বলে মত বিজেপির।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অভিযোগ, কৃষি আইনের বিরোধীরা শস্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিয়ে কৃষকদের ভুল বোঝাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “চাষিরা অবশ্যই ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাবেন। সেই সঙ্গে তাঁরা উৎপাদিত শস্য যে কোনও জায়গায় বেচতে পারবেন। এর মাধ্যমে অনেকের কালো টাকার আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে।”
কিছুদিন আগে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ইন্ডিয়া গেটের কাছে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায় পাঞ্জাব যুব কংগ্রেস। সেখানে একটি ট্র্যাক্টর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কৃষকরা যে যন্ত্রগুলিকে পুজো করেন, সেগুলি পুড়িয়ে বিরোধীরা তাঁদের অপমান করছেন।”
বিরোধীদের বক্তব্য, কৃষকদের মারার জন্য এই আইন আনা হয়েছে। বিজেপির আসল লক্ষ্য, দেশের কৃষি ক্ষেত্রকে কর্পোরেট পুঁজির কাছে বেচে দেওয়া। কৃষকদের মৌলিক মানোন্নয়ন নয়, গেরুয়া শিবিরের মূল লক্ষ্য কয়েকজন পুঁজিপতির মুনাফা ও সম্পদ আরও বাড়িয়ে দেওয়া।
এই আইনের বিরুদ্ধে ১০০-র বেশি কৃষক সংগঠন রাস্তায় নেমেছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, কেরল, তামিলনাড়ু, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে উত্তাল বিক্ষোভ হয়েছে গত ২৫ সেপ্টেম্বর। আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিরোধীরা। তা ছাড়া কৃষি বিলের প্রতিবাদে এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে শিরোমনি অকালি দল।