দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রের তিন কৃষি আইন (farm laws) বিরোধী কৃষক (farmers) আন্দোলনের রোষে অক্ষয় কুমারের (akshay kumar) ছবি 'সূর্যবংশী' (Sooryavanshi)। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ছবিটির প্রদর্শন (screening) জোর করে বন্ধ করে দিল কৃষকরা। পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরের ৫টি প্রেক্ষাগৃহে।
কৃষকরা পাঞ্জাবের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহের বাইরে অক্ষয়ের এই ছবির পোস্টারও ছিঁড়ে দিয়েছে। অক্ষয় কেন তাদের আন্দোলন সমর্থন করছেন না, এটাই তাদের ক্ষোভের কারণ। এই কৃষকরা ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (কাদিয়ান) সংগঠনের সদস্য। তাদের জেলা কমিটির সভাপতি শরণ ধুগ্গার নেতৃত্বে কৃষকরা বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। তারপর স্থানীয় শহিদ উধম সিং পার্ক থেকে মিছিল বের করে স্থানীয় সিনেমা হলের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়ে দাবি করে, সূর্যবংশীর প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে। এরপর একের পর এক হলে ঢুকে কর্তৃপক্ষকে ছবির প্রদর্শন বন্ধ করে বাধ্য করে। তারা জানিয়ে দেয়, যতদিন না কেন্দ্রের তিনটি কৃষি আইন বাতিল হচ্ছে,ততদিন ছবির সম্প্রচার হতে দেবে না।
কেন্দ্রের পাস করানো তিনটি কৃষি আইনে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) গ্যারান্টি নেই বলে দাবি করে গত বছরের নভেম্বর থেকে দিল্লির কয়েকটি সীমান্তে অবরোধ চলছে কৃষকদের, যাদের অধিকাংশই পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের। কৃষকদের আশঙ্কা, আইনগুলি চালু হলে তারা বহুজাতিক কোম্পানির হাতের মুঠোয় চলে যাবে। সুপ্রিম কোর্ট আপাততঃ তিনটি আইনের প্রয়োগে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, আইনগুলি বাতিল করে এমএসপি সুনিশ্চিত করতে নতুন আইন করুক মোদী সরকার।
যদিও কেন্দ্রের দাবি, তিনটি কৃষি আইনই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করবে। আপাততঃ দুপক্ষের মধ্যে ১১ দফা বৈঠক হলেও কোনও অচলাবস্থা কাটার লক্ষণ নেই।
গত বেশ কয়েক বছর ধরে ধর্মীয়, সামাজিক কারণ সামনে রেখে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে নানা সংগঠন চলচ্চিত্র শিল্পকে টার্গেট করেছে। রাজপুত ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে পদ্মাবতী ছবি ঘিরে কয়েক বছর আগে রীতিমতো তাণ্ডব চালায় করনি সেনা। সম্প্রতি ছবির নাম কেন আশ্রম হবে, প্রশ্ন তুলেছেন মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র। সেই তালিকায় নবতম সংযোজন অক্ষয়ের ছবি। তবে এবার কোনও ধর্মীয় আবেগের প্রশ্ন নয়, উঠেছে কৃষি আইনের মতো বিষয়।