
বড়া চৌমাথার মণ্ডা
শেষ আপডেট: 26 December 2024 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বড়ার মণ্ডা খেয়েছেন কখনও? নলেন গুড়ের স্পর্শে এখন মণ্ডা আরও মোহময়। হাল্কা কড়া, কিন্তু ভিতরে কোমল। জানতে চান কোথায় গেলে পাওয়া যাবে?
গাড়ি নিয়ে যদি বোলপুর শান্তিনিকেতন বা তারাপীঠ যান,পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের কাছে বড়া চৌমাথায় এনএইচ২ বি জাতীয় সড়কের ডানদিকে পড়বে দোকান। মুখে দিলেই মিলিয়ে যায় এই সুস্বাদু মণ্ডা। যারা সে স্বাদের সঙ্গে পরিচিত, তাঁরা এই মণ্ডার টানে বারবারই আসেন বড়া চৌমাথায়। বড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে স্পেশাল মণ্ডা কিনতে তাঁরা ভোলেন না। ৫ টাকা থেকে ১৫ টাকায় মেলে প্রতি পিস মণ্ডা।
এবার জানাই কীভাবে তৈরি হয় এই খাস মণ্ডা? বড়া চৌমাথা মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী বিল্টু ঘোষ জানান, প্রথমে ছানার জল ঝরিয়ে স্বল্প পরিমাণ চিনি ও নলেন গুড়ের মিশ্রণে পাক তৈরি করা হয়। একটু ঠান্ডা হলেও তৈরি হওয়া পাক পাটায় পেটানো হয়। তারপর লেচি কেটে তৈরি হয় খাস মণ্ডা।
মণ্ডাপ্রেমীদের দাবি, অন্যান্য জায়গার তুলনায় বড়া চৌমাথার মণ্ডা স্বাদে অতুলনীয়। মুখে দিলেই মিলিয়ে যায় এই খাসমণ্ডা। দাঁড়িয়ে বা বসে একটু খাওয়া-দাওয়ার পর বাড়ির সদস্যদের জন্য অনেকেই নিয়ে যান এই স্পেশাল খাসমণ্ডা।
মন্ডার জন্ম নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কারও মতে, বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা গ্রামের ময়রা গোপালচন্দ্র পাল স্বপ্নে ওই মিষ্টি আবিষ্কার করেন। আবার কারও দাবি, মণ্ডার আবির্ভাব হয় বাঁকুড়ায়। । তবে এটাও ঠিক, মণ্ডা অন্য কোনও নামে বা আকৃতিতে হয়তো বাংলায় নানা জায়গায় বেঁচে রয়েছে।
কারিগর মিতুন মণ্ডল ও সনাতন দাসদের মতে, মণ্ডার এই স্বাদ পুরোটাই নির্ভর করছে এর পাকের উপর। তাঁদের মতে, ঠিক মতো পাক দিতে না পারলে কমে যায় মণ্ডার স্বাদ। তাই সেইদিকে তীক্ষ্ণ নজর থাকে ময়রার।