দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের খসড়া জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিলে আপত্তি, উদ্বেগ জানিয়ে রাজ্য ল কমিশনকে চিঠি দিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অস্থায়ী সভাপতি অলোক কুমার। খসড়া থেকে এক সন্তান বিধি বাদ দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশ সরকার উত্তরপ্রদেশ জনসংখ্যা (নিয়ন্ত্রণ, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন) বিলের প্রথম খসড়া প্রকাশ করে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাধারণ লোকজনের মতামত চেয়েছে। প্রস্তাবিত বিলে দুই সন্তান নীতি মানলে একাধিক ইনসেনটিভের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। যেমন সরকারি কর্মীরা কর্মজীবনে দুটি বাড়তি ইনসেনটিভ, ভর্তুকি দামে জমি বা বাড়ি, ৩ শতাংশ বেশি ইপিএফ পাবেন। আর যাদের একটিই সন্তান, তাঁদের দুটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট হবে। ২০ বছর বয়স পর্যন্ত সেই সন্তান নিখরচায় চিকিত্সা পাবে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার পাবে।
ভিএইচপির চিঠিতে বলা হয়েছে, বিলের মুখবন্ধে জনসংখ্যায় স্থিতিশীলতা আনা, দুই সন্তান নীতি চালুর কথা আছে, যার সঙ্গে পরিষদ একমত। কিন্তু তার ৬ (২) ও ৭ ধারার সঙ্গে সহমত নয়, যাতে সরকারি চাকুরে ও অন্যদের পরিবারে শুধু একটিই সন্তান থাকলে ইনসেনটিভের প্রতিশ্রুতি আছে। এটি বিলের ঘোষিত উদ্দেশ্য ছাপিয়ে গিয়েছে বলে অভিমত ভিএইচপির। তারা বলেছে, আমরা দেখেছি, উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যা নীতিতে মোট প্রজনন হার একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১.৭ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা আছে।
ভিএইচপির দাবি, উত্তরপ্রদেশের ক্ষেত্রে এক সন্তান নীতি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারসাম্যের ঘাটতি আরও বাড়িয়ে তুলবে। কেননা পরিবার পরিকল্পনা ও গর্ভনিরোধকের ক্ষেত্রে ইনসেনটিভ ও ডিসইনসেনটিভের ক্ষেত্রে একেক গোষ্ঠী একেকভাবে সাড়া দেয়।
দেশের নানা রাজ্যে জনসংখ্যায় ভারসাম্যের অভাব বাড়ছে বলে দাবি ভিএইচপির। তারা বলেছে, বিশেষতঃ অসম ও কেরলের মতো রাজ্যে ভারসাম্যের অভাব উদ্বেগ ছড়াচ্ছে যেখানে সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি কমেছে। দুটি রাজ্যেই হিন্দুদের সামগ্রিক প্রজনন হার (টিএফআর) ২.১ শতাংশের অনেক কম, কিন্তু মুসলিমদের টিএফআর অসমে ৩.১৬, কেরলে ২.৩৩ শতাংশ। এইসব রাজ্যে একটি সম্প্রদায় সংকুচিত হচ্ছে, আরেকটি বেড়েই চলেছে। উত্তরপ্রদেশে একই পরিস্থিতি হওয়া উচিত নয়। সুতরাং পলিসিটা নতুন করা সাজাতে হবে ভারসাম্যের ঘাটতি দূর করার জন্য, নয়তো এক সন্তান নীতিতে উল্টো ফল হবে। কোনও সমাজে জনসংখ্যা স্থিতিশীল হয় যখন একজন মহিলার প্রজনন জীবনে গড়ে ২এর কিছু বেশি সন্তান হয়। সেক্ষেত্রে টিএফআর হয় ২.১ । এটাকে রিপ্লেসমেন্ট রেটও বলে।
চিনের উদাহরণ তুলে কুমার লিখেছেন, এক সন্তান নীতি নিয়েছিল চিন ১৯৮০ সালে। কিন্তু পরে চিনকে এই নীতি শিথিল করতে হয় সেইসব বাবা, মায়েদের জন্য, যারা নিজেরাই বাপ-মায়ের একমাত্র সন্তান। বলা হয় চিনে এক সন্তান নীতি কখনও সম্ভাব্য বাবা-মায়েদের অর্ধেকের বেশির ক্ষেত্রে প্রয়োগই হয়নি। ৩ দশকের মধ্যে পুরো পলিসিটাই তুলে নিতে হয়। এক সন্তানরা সামাজিক ভাবে কম মানিয়ে চলতে পারে, ভাইবোনদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা পায় না, একমাত্র বাচ্চা বলে বাবা-মায়ের বেশি আদর, তোল্লাই পায়।
জনসংখ্যার সংকোচন, এক সন্তান নীতির অনাকাঙ্খিত সামাজিক, আর্থিক পরিণতি এড়াতে,বাবা-মায়েদের বদলে সন্তানকে পুরস্কার বা শাস্তিদানের প্রভেদ দূর করতে ৫, ৬ (২), ৭ ধারা বাদ দিতে বলেছে ভিএইচি।