
'বাংলার বাড়ি' প্রাপকদের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
শেষ আপডেট: 15 January 2025 12:31
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে পঞ্চায়েতকে ‘নাক গলাতে’ নিষেধ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পর্ধা দেখাতে সেই নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করল মেমারি ১ নম্বর ব্লকের বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ওই পঞ্চায়েতগুলি বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সরকারি অনুদান-প্রাপকদের কারও কাছ কাছ থেকে ৫০০ আবার কারও কাছ থেকে ১০০০ টাকা করে আদায় করেছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসেছে ব্লক ও জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক আয়েষা রানি এ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ।
মেমারি ১ নম্বর ব্লকে ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। সবকটি গ্রাম পঞ্চায়েতই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। সূত্রের খবর,“বাংলার বাড়ি“ প্রকল্পে মেমারি ১ নম্বর ব্লকের প্রায় ৪৫০০ জন সরকারি অনুদান পাচ্ছেন। তাঁদের বেশিরভাগের কাছেই প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে। অভিযোগ, অনুদান পেয়ে যাঁরা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করছেন, তাঁদের কাছ থেকে ব্লকের বেশিরভাগ পঞ্চায়েত ‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ নিচ্ছেন। তারমধ্যে দলুইবাজার ২ নম্বর পঞ্চায়েত নাকি রীতিমতো মাইকে প্রচার করে জানিয়ে দিয়েছে ‘বাংলার বাড়ি’ তৈরির সময় ‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ দিতে হবে।
এই অভিযোগ সত্য বলে স্বীকার করে নিয়েছেন দলুইবাজার ২ নম্বর পঞ্চায়েতের সদস্য রাজীব মালিক। তিনি জানিয়েছেন,“ ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের জন্যে শংসাপত্র নিতে হবে বলে পঞ্চায়েত থেকে প্রচার করা হয়েছিল। সেই শংসাপত্র নেওয়ার জন্য ১০০০ টাকা করে পঞ্চায়েতকে দিতে হবে বলেও পঞ্চায়েত থেকে এলাকায় প্রচার করা হয়েছে। একইভাবে মেমারি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে টাকা প্রাপকদের কাছ থেকে দলুইবাজার ২ নম্বর পঞ্চায়েতের টাকা নেওয়ার খবর পেয়েই তিনি ব্লকের বিডিওর কাছে গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন,শুধু দলুইবাজার ২ নম্বর পঞ্চায়েতই নয়, দুর্গাপুর, নিমো ২ সহ ব্লকের বেশিরভাগ পঞ্চায়েতই ‘বাংলার বাড়ি’ প্রাপকদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে।"
এই বিষয়ে মেমারি ১ নম্বর ব্লকের নিমো ২ নম্বর পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান শেখ আব্দুল রহমান কোনও রাখঢাক না রেখেই জানিয়েছেন,“বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের অনুদানকে কাজে লাগিয়ে যাঁরা ’বড় বাড়ি’ তৈরি করছেন,তাঁদের কাছ থেকেই ‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ নেওয়া হয়েছে। আর যাঁরা ‘বাংলার বাড়ির’ মডেল অনুযায়ী বাড়ি করছেন, তাঁদের কাছ থেকে কোনও টাকা নেওয়া হচ্ছে না।” অন্যদিকে দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান নিতাই ঘোষ বলেন,’আমরা কাউকে জোর করে উন্নয়ন খাতে অর্থ দিতে বলিনি। যাঁরা দিতে ইচ্ছুক,তাঁদের কাছ থেকেই নেওয়া হচ্ছে।’ পঞ্চায়েতের উপ-প্রধানরা অকপটে ডেভেলপমেন্ট ফি নেওয়ার কথা স্বীকার করে নিলেও উপভোক্তারা অভিযোগ করার সাহস দেখাতে পারছেন না। প্রতিবাদ করলে নানা অজুহাত দেখিয়ে পঞ্চায়েত দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আটকে দিতে পারে এমন ভয় তাঁদের মনে কাজ করছে।
মেমারির তৃণমূল বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে বলেন, "ডেভেলপমেন্ট ফি' নেওয়া তো দূরের কথা,'বাংলার বাড়ি' প্রকল্পে পঞ্চায়েতের নাক গলানোয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। তারপরেও মেমারি ১ ব্লকের বেশ কিছু পঞ্চায়েত বাংলার বাড়ি প্রাপকদের কাছ থেকে ‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ নিচ্ছে। এটা জানার পরেই আমি বিডিও-কে তদন্ত করে দেখতে বলেছিলাম।" আর মেমারি ১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,“দল ও সরকারের নির্দেশ রয়েছে বাংলার বাড়ি প্রাপকদের কাছ থেকে কেউ টাকা নিতে পারবে না। প্রকৃত ঘটনা কী তা প্রশাসন খতিয়ে দেখছে।”