দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬ থেকে ৯ জুলাই জম্মু ও কাশ্মীর সফরে যাচ্ছে ডিলিমিটেশন কমিশন। চারদিন ধরে কমিশনের সদস্যরা জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা কেন্দ্রগুলির ডিলিমিটেশনের ব্যাপারে সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলি ও ডিস্ট্রিক্ট কমিশনারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ফিডব্যাক সংগ্রহ করবে।
বুধবার নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সফরের সিদ্ধান্ত স্থির হয়। বৈঠকে পৌরহিত্য করেন ডিলিমিটেশন কমিশনের চেয়ারপার্সন বিচারপতি(অবসরপ্রাপ্ত) রঞ্জন প্রসাদ দেশাই, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের সুশীল চন্দ্র। কমিশনের জনৈক মুখপাত্র বলেন, কমিশন সফর চলাকালে রাজনৈতিক দলগুলি, জনপ্রতিনিধি, কেন্দ্রশাসিত এলাকার ২০টি জেলার নির্বাচন অফিসার বা ডেপুটি কমিশনার সহ প্রশাসনিক অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে চলতি ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক তথ্য ও ইনপুট নেবে। জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইনে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া চলছে। কমিশনের প্রত্যাশা, এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই সহযোগিতা করবে, মূল্যবান পরামর্শ দেবে যাতে সময়মতো ডিলিমিটেশন পর্ব শেষ করা যায়। ইতিমধ্যেই কমিশন ২০১১র সেনসাস অনুসারে সব জেলা, নির্বাচনী কেন্দ্রের মানচিত্র ও তথ্য নিয়ে বেশ কয়েক দফায় বৈঠক করেছে। সব পক্ষকে সেই বৈঠকে ডাকা হলেও মাত্র দুটি এসেছিল। ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত নানা দিক নিয়ে নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের তরফেও একাধিক প্রস্তাব এসেছে।
বুধবারের বৈঠকে কমিশন এপর্যন্ত এ ব্যাপারে কতদূর অগ্রগতি হয়েছে,তা খতিয়ে দেখেছে বলে খবর। বিধানসভা কেন্দ্রগুলির পুনর্গঠনের ব্যাপারে জম্মু ও কাশ্মীরের সব ডেপুটি কমিশনারের সঙ্গে গত সপ্তাহে যে আলোচনা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে সাতটি নতুন বিধানসভা কেন্দ্র তৈরির ব্যাপারে হওয়া কথাবার্তাও খতিয়ে দেখেছে কমিশন।
দিনকয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সর্বদল বৈঠকে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের সামিল হওয়ার ডাক দেন। কেন্দ্র যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিধানসভা নির্বাচন করিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করতে দায়বদ্ধ বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। মোদী নাকি বৈঠকে তাঁদের জানান, যাতে দ্রুত নির্বাচন করা সম্ভব হয়, সেজন্য তিনি সবার আগে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলতে আগ্রহী। বৈঠকের পর তিনি ট্যুইটও করেন, জম্মু ও কাশ্মীরে গণতন্ত্রকে তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী করাই আমাদের অগ্রাধিকার। ডিলিমিটেশন দ্রুত গতিতে করতে হবে যাতে নির্বাচন করিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসে যারা সেখানকার উন্নয়নের পাখায় শক্তি জোগাবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকও এক বিবৃতিতে জানায়,অমিত শাহ জোর দিয়েছেন যে, ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সংসদে রাজ্যের মর্যাদার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পুনরুদ্ধারের পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
এর আগে একটি সূত্র জানিয়েছিল, ডিলিমিটেশন কমিশন গোটা প্রক্রিয়ার ব্যাপারে জম্মু ও কাশ্মীরের সব দলগুলিকে ডেকে তাদের মতামত, প্রস্তাব শুনতে পারে।
গত বছরের ৬ মার্চ সরকার ডিলিমিটেশন কমিশন গঠন করে। মাথায় বসানো হয় অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইকে। কমিশনকে এক বছরের মধ্যে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শেষ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল অনুসারে জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা আসনের সংখ্যা ১০৭ থেকে বাড়িয়ে ১১৪টি করতে হবে। এর ফলে জম্মুর লাভ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলির অভিমত, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল ২০১৯ পুরোপুরি অসাংবিধানিক। সুপ্রিম কোর্ট তার সাংবধানিক বৈধতা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তই হওয়া উচিত নয়।