
সিভিক ভলান্টিয়ার শোভন শী
শেষ আপডেট: 20 November 2024 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন স্ত্রী। চিকিৎসক জানিয়েছেন, দ্রুত জোগাড় করতে হবে এক ইউনিট 'এ' পজিটিভ গ্রুপের রক্ত। অসহায় অবস্থায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে একে ওকে ফোন করছিলেন স্বামী। যোগাযোগ করেছিলেন ডোনারদের সঙ্গেও। কিন্তু মিলছিল না রক্ত। স্বাভাবিকভাবে চিন্তায় পড়ে যান তিনি।
অদূরে দাঁড়ানো এক সিভিক ভলান্টিয়ারের নজরে আসে গোটা বিষয়টি। কানে আসছিল সংলাপও। এগিয়ে আসলেন তিনি। রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন মহিলার। আরজি কর কাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। তারপর থেকেই তাদের সম্পর্কে বিষোদ্গার করছেন সমাজের নানা স্তরের মানুষ। এর আগেও বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ এসেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। তবে এবার উল্টো ছবিটা দেখা গেল কালনায়।
দেবাশিস দত্ত নামে এক ব্যক্তির স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। হাসপাতালে ভর্তি স্ত্রীর জন্য এক ইউনিট রক্ত জোগাড়ে হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন দেবাশিস। দরবার করেছেন নানা জায়গায়। ফোনের পর ফোন করেছেন। শেষে হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা হয়। এসময় তিনি নজরে পড়ে যান কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার শোভন শী'র।
দূর থেকে পুরো বিষয়টি কানে যায় শোভনবাবুর। দেবাশিসের দিশেহারা অবস্থা দেখে কাছে এগিয়ে যান তিনি। সমস্যাটি শোনেন। তাঁকে ভরসা যোগান। কাউকে না পাওয়া যাওয়ায় নিজেই দায়িত্ব নেন। মঙ্গলবার বিকেল ৩ টে নাগাদ রক্ত দিলেন তিনি। বিরাট সমস্যায় হাবুডুবু খাচ্ছিলেন প্রসূতির বাড়ির লোক। সেই সমস্যার সমাধান হল। দেবাশিসবাবু বলেন,"সিভিক ভলান্টিয়ারদের নামে নানা অভিযোগ উঠছে নানা জায়গায়। তাই মানুষের একটা বিরূপ ধারণা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমার যে অভিজ্ঞতা হল সেটা একেবারেই অন্যরকম। খুব বিপদের সময় পাশে পেয়েছি ওঁকে। যে উপকার করলেন সেটা কখনই ভুলব না।" সিভিক ভলান্টিয়ার শোভনবাবুর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন গোটা কালনা শহরের মানুষ।