
আসানসোল আদালতে সুবোধ
শেষ আপডেট: 30 June 2024 15:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: রাজ্যের একের পর এক অপরাধের সঙ্গে নাম জড়িয়েছিল তার। বিহারের জেলবন্দি কুখ্যাত দুষ্কৃতী সুবোধ সিংকে ট্রানসিট রিমান্ডে রাজ্য আনল সিআইডি। ২০২২ সালে ব্যারাকপুরের প্রসিদ্ধ বিরিয়ানির দোকান ডি বাপিতে গুলি চালানোর ঘটনায় সুবোধ জড়িত। কয়েকদিন আগে এই দোকানের কর্ণধারের পুত্রকেও তোলা চেয়ে হুমকি দিচ্ছিল তার লোকেরা।
বাংলায় একাধিক খুন, গয়নার দোকানে ডাকাতি, তোলাবাজির ঘটনায় জড়িত রয়েছে সুবোধ সিং। ২০২২ সালে রানিগঞ্জের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা ও এক সোনার দোকানের ডাকাতি ঘটনা ঘটে। রবিবার সেই মামলায় আসানসোল আদালতে তোলা হয়েছিল সুবোধকে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেউর জেলে বসে তার নেটওয়ার্ক চালাত সুবোধ। ১৫ জুন বেলঘরিয়ার রথতলায় অজয় মণ্ডল নামে এক ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। সেখানেও সুবোধের হাত রয়েছে।
এই ঘটনার পরে সাইপ্রাসের সার্ভার ব্যবহার করে ভিওআইপি কলের মাধ্যমে ডি-বাপির কর্ণধারের ছেলে অনির্বাণ দাসকেও তোলা চেয়ে হুমকি দিতে থাকে সে। এতে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছিলেন অনির্বাণ। ব্যবসায়ীমহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। গত ২০২২ সালে ডি বাপিতে শ্যুটআউটের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় নিজের শ্যুটারদের দিয়ে গুলি চালিয়েছিল সুবোধই। দু’জন জখমও হন। এই ঘটনার পরে এবার বিরিয়ানি ব্যবসায়ী পুত্র অনির্বাণকে টার্গেট করেছিল সুবোধ। তোলা চেয়ে হুমকি দিচ্ছিল। আতঙ্কিত অনির্বাণ ও পরিবার পুলিশের কমিশনারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এই ঘটনার তদন্তে নেমেছিল সিআইডি। তখনই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এই ঘটনার সঙ্গেও সুবোধ জড়িত রয়েছে।
আদালতের প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট নিয়ে তাকে বিহারের জেল থেকে এ রাজ্যে আনার তোড়জোড় আগেই শুরু করেছিল সিআইডি। সূত্রের খবর, বেউর জেলের সেক্টর-৩’এর ওয়ার্ড নম্বর ২২’এর ঘাঁটিতে বসে ফের ব্যারাকপুরের ব্যবসায়ীদের কাছে ‘তোলা’ চেয়ে ফোন শুরু করেছিল সুবোধ। কখনও তার সহযোগী রমেশ সিং ও সানয় সিং দিয়ে এই কাজ করাত।
শাগরেদরা বিহারের নম্বরের সিমকার্ড ব্যবহার করলেও হুমকি ফোনের ক্ষেত্রে সুবোধ সিং পুরনো পন্থা ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল (ভিওআইপি) পদ্ধতিই ব্যবহার করেছে। টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লা খুনের মামলায় যোগ রয়েছে সুবোধের। কয়লা মাফিয়া রাজু ঝার হত্যা, একের পর এক গয়নার দোকানে ডাকাতির ঘটনার নেপথ্যে সুবোধ সিংয়ের নাম উঠে এসেছে।