দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এনআরসি) দেশের মুসলিমদের কোনও ক্ষতি করবে না। বললেন মোহন ভাগবত। সিএএ, এনআরসি ইস্যু নিয়ে সাম্প্রদায়িক লাইনে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে যারা, তাদের মোকাবিলার ডাক দিয়েছেন তিনি, বুধবার অসমে। গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ননী গোপাল মহন্তর এনআরসি, সিএএ নিয়ে লেখা একটি বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরএসএস প্রধান। সেখানে সিএএ, এনআরসি কোনও ভারতীয় নাগরিকের স্বার্থবিরোধী নয় বলে দাবি করেন ভাগবত। বলেন, ১৯৫০ সালের নেহরু-লিয়াকত চুক্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, প্রতিটি রাষ্ট্র তার সংখ্যালঘুদের রক্ষা করবে। ভারত সেই চুক্তি মানছে, কিন্তু পাকিস্তান তা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
২০১৯-এ সিএএ পাশ হয়। এর উদ্দেশ্য বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফনিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের জেরে ভারতে পালিয়ে আসা অ-মুসলিম সংখ্যালঘুদের দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়া। যদিও আইনের বিরোধীরা এটি বৈষম্যমূলক, অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বলছেন, ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে নাগরিকত্বের সঙ্গে ধর্মকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এই আইনে। সিএএ-র বিরুদ্ধে আগুন জ্বলে উঠেছিল অসমে। আশঙ্কা ছড়ায়, এই আইনের ফলে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে অসমে অভিবাসন হবে। অসমে সিএএ-র বিরোধীরা দাবি করেন, এটি ১৯৮৫-র অসম চুক্তির পরিপন্থী। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে নথিহীন অভিবাসীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কারের দাবিতে আটের দশকে অসমে একটানা বিক্ষোভ, আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে অসম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যাতে চিহ্নিতকরণের কাট অফ ডেট ধরা হয় ১৯৭১ এর ২৪ মার্চ। সেই চুক্তির ধাঁচেই অসমে প্রক্রিয়া চালিয়ে এনআরসি থেকে বাদ যায় প্রায় ২০ লাখ লোকের নাম ।
ভাগবত বলেন, ভারতীয়রা সবসময় বহিরাগতদের স্বাগত জানায়, কিন্তু কেউ কেউ তাদের ভাষা, ধর্ম, খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৩০ থেকেই পরিকল্পিত ভাবে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়িয়ে তাদের আধিপত্য কায়েম ও এই দেশকে পাকিস্তানে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছে। এটা পঞ্জাব, সিন্ধ, অসম, বাংলার ক্ষেত্রে সত্যি হয়েছে। পরিকল্পনাটা এতদূর এগয় যার পরিণামে ভারত দুটুকরো হয়, তৈরি হয় পাকিস্তান। কিন্তু পুরোটা পরিকল্পনামাফিক হয়নি। অসম পাকিস্তানে যায়নি, যদিও বাংলা, পঞ্জাব ভেঙেছে। এতে পাকিস্তানে অত্যাচারিত কিছু লোক বাধ্য হন ভারতে এসে আশ্রয় চাইতে।
অন্য ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ভারতের সংস্কৃতির অংশ বলে সওয়াল করে ভাগবত বলেন, দুনিয়ার কারও থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র আমাদের শিখতে হবে না। আমাদের সংবিধানে অধিকার, কর্তব্য স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যখন লোকে সব অধিকার চায়, কিন্তু কর্তব্য পালন করে না, তখনই সমস্যা হয়।
পাকিস্তান, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের দুর্দশা তাঁরা উপেক্ষা করতে পারেন না, বলেন ভাগবত। বলেন, সিএএ আনা হয়েছে ওইসব দেশে নির্যাতিত হয়ে ভারতে আশ্রয় চাওয়া লোকজনের জন্য। যারা কোনও নির্যাতনের জেরে ভারতে আসেনি, তাদের জন্য নয়। এনআরসির মতো প্রক্রিয়া প্রতিটি দেশেই হয়, দেশে বসবাসকারী লোকজনের মধ্যে কারা প্রকৃত নাগরিক, খুঁজে বের করার জন্য। সব সরকারেরই দায়িত্ব দেশে বেআইনি নাগরিকদের ওপর নজর রাখা। এনআরসি তাদের চিহ্নিত করার একটা প্রক্রিয়া মাত্র।