
স্কুলের ডাকে বৈঠক
শেষ আপডেট: 21 December 2024 17:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ছাত্রদের বিসদৃশ কেশসজ্জায় লাগাম টানতে নাপিতদের শরণাপন্ন পূর্ব বর্ধমানের স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিম্ভূতকিমাকার চুল ছেঁটে তাতে লাল বা বাদামি রং করিয়ে স্কুলে আসছে ছাত্ররা। যা দেখে লজ্জায় মুখ লুকোতে হচ্ছে পূর্বস্থলীর পারুলিয়া কুলকামিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। এই অবস্থায় ছাত্রদের ’বিসদৃশ’ চুলের ছাঁটে লাগাম পরাতে রীতিমতো সভা ডেকে নাপিতদের শরণাপন্ন হলেন শিক্ষকরা। তারই সঙ্গে তারা নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ছাত্রদের স্কুল ছাত্র সুলভ চুল কাটিয়ে তবেই স্কুলে পাঠানোর বার্তা দিলেন অভিভাবকদের। শিক্ষকদের অনুরোধ মেনে ছাত্রদের চুলের ছাঁট ’শোভন’ করতে নাপিত ভাইয়েরা কী করেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে এলাকার বাসিন্দারা।
পারুলিয়া কুলকামিনী উচ্চ বিদ্যালয়টি পূর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লকের অন্যতম নামজাদা স্কুল। ২০১৩ সালে এই স্কুলের এক পড়ুয়া মাধ্যমিকে রাজ্যের মধ্যে প্রথম হয়। ২০১৭ সালে রাজ্যের সেরা স্কুলের স্বীকৃতিও পায় এই স্কুল। এছাড়াও খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এই স্কুলের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।বর্তমানে স্কুলে তিন হাজারেরও বেশি পড়ুয়া রয়েছে। এমন এক ঐতিহ্যশালী স্কুলের ছাত্রদের ’বিসদৃশ’ মাথার চুলের ছাঁট বিড়ম্বনায় ফেলে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষকে।
নতুন শিক্ষাবর্ষে সেই বিড়ম্বনা থেকে নিষ্কৃতি পেতে এলাকার নাপিতদের শরণাপন্ন হন শিক্ষকরা। সেই
মতো সভামঞ্চ তৈরি করা হয়। শুক্রবার সেই সভায় উপস্থিত থাকার জন্য স্কুলের সমস্ত ছাত্রদের অভিভাবক এবং এলাকার সমস্ত নাপিতদের আহ্বান জানানো হয়। সভায় এলাকার বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুব্রত সামন্ত সহ পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। স্কুলের ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছিলেন ৩০ জন নাপিত। স্কুল কর্তৃপক্ষের এরকম পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান অভিভাবকদের অনেকেই ।
সভায় উপস্থিত হওয়া নাপিতদের কাছে শিক্ষকরা তুলে ধরেন স্কুলের মর্যাদার কথা। ছাত্রদের মাথার চুলের ’বিসদৃশ’ ছাঁট, কতটা স্কুলের ঐতিহ্যের পরিপন্থী এবং অসন্মানজনক তা সভায় তুলে ধরেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক সুব্রত সামন্ত পড়ুয়াদের অভিভাবক ও নাপিতদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন,“স্কুল মানে শুধু ইংরাজি বা অঙ্ক শেখা আর দু-চার পাতা বইপড়া নয়। ছাত্র- ছাত্রীদের মধ্যে শিষ্ঠাচার,আচার আচরণ,শৃঙ্খলা বোধ,রুচিশীলতা,সবই তৈরি হয় স্কুল থেকে। তাতে অবশ্যই শিক্ষকদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকে। তবে কোনও ছাত্রের মাথার চুলের ’বিসদৃশ’ ছাঁট বিদ্যালয়ের পরিবেশের পরিপন্থী হয়ে উঠবে সেটা মেনে নেওয়া যায় না।" তাই ছাত্রদের চুলের ছাঁটে লাগাম পরাতেই এমন ব্যতিক্রমী সভা ডাকতে হল বলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান।