
রাষ্ট্রপতির থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন সায়নী দাস
শেষ আপডেট: 18 January 2025 19:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে তেনজিং নোরগে ন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার অ্যাওয়ার্ড
লাভ করলেন বঙ্গতনয়া সায়নী। শুক্রবার দিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার নিলেন তিনি। দেশের সর্বোচ্চ অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস সম্মান পেয়ে উচ্ছ্বসিত সায়নী বলেন, "এই পুরস্কার আমাকে আরও বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করল।আমাকে সপ্তসিন্ধু জয় করতেই হবে।"
সায়নী দাসের বাড়ি কালনা পুরসভার অন্তর্গত বারুইপাড়ায়। রটনেস্ট, ক্যাটালিনা,ইংলিশ চ্যানেল, মালোকাই চ্যানেল ও কুক স্ট্রেইট চ্যানেল জয়ের পর সায়নী দাসের সপ্তসিন্ধুর পঞ্চমসিন্ধু জয় হয়ে গেছে। গত বছরের অগস্ট মাসের শেষে সপ্তসিন্ধুর পঞ্চম সিন্ধু জয় করে সায়নী গোটা বিশ্বের সাঁতারু মহলে তাক লাগিয়ে দেন।
সায়নী দাসের বাবা রাধেশ্যাম দাস অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। তাঁর হাত ধরেই সায়নীর সাঁতারে হাতেখড়ি। তারপর থেকে কঠিন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে সায়নী নিজেকে কার্যত ’জলকন্যা’ হিসেবে তৈরি করেন। হাওয়ার গতিবেগ, জলের স্রোত এবং দীর্ঘ সময় সাঁতার কেটে এগিয়ে চলার যোগ্য হিসাবে নিজেকে তৈরি করেন সায়নী। সেই যোগ্যতা কে কাজে লাগিয়ে বঙ্গতনয়া সায়নী রটনেস্ট ও ক্যাটলিনা চ্যানেল জয়ের পর ২০১৭ ইংলিশ চ্যানেল জয় করেন।এরপর ২০২২ সালে তিনি মার্কিন মুলুকের মালোকাই চ্যানেল জয় করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। শুধু ভারত নয়,এশিয়া মহাদেশের মহিলা সাঁতারু হিসাবেও সায়নী প্রথম মালোকাই চ্যানেল জয়ের নজির সৃষ্টি করেন। গত বছরের এপ্রিল মাসে সায়নী জয় করেন সপ্তসিন্ধুর এক সিন্ধু নিউজিল্যাণ্ডের কুক স্ট্রেইট চ্যানেল।এরপর ওই বছরেই সায়নী নর্থ চ্যানেল জয় করে ফেলেন। বাকি আর রয়েছে সুগারু ও জিব্রাল্টার প্রণালী জয়। তাহলেই ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেলবেন বঙ্গ তনয়া সায়নী।তাঁর মাথায় উঠবে ’ওশন সেভেন’ চ্যালেঞ্জের মুকুট।
আয়ারল্যাণ্ডে গিয়ে সায়নীর সপ্ত সিন্ধুর পঞ্চম সিন্ধু জয় করাটা কিন্তু খুব একটা সহজ ছিল না। সায়নীর কথা অনুযায়ী ,“আগের চারটি চ্যানেল জয়ের থেকেও নর্থ চ্যানেল জয়ের জন্যে কঠিন লড়াই চালাতে হয়েছিল। পরিস্থিতির প্রতিকূল থাকায় দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় থাকতে হয়েছে। কখনও তিন ঘণ্টায় মাত্র ১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পেরেছি।আবার জলের টান ও জেলিফিসের জন্যেও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে।" জলে এই ভাবে লড়াই চালিয়ে ১৩ ঘণ্টা ২২মিনিটে ৪৮কিলোমিটার পথ সাঁতারে তবেই তিনি পঞ্চম সিন্ধু জয়ের রেকর্ড গড়তে পারেন। এর আগে সব প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে ১১ ঘণ্টা ৫১ মিনিটে ২৯,৫ কিলোমিটার দুর্গম জলপথ অতিক্রম করে কুক প্রণালী জয় করেন। বাকি আর রয়েছে সপ্ত সিন্ধুর ষষ্ঠ ও সপ্তম সিন্ধু সুগারু ও জিব্রালটার প্রণালী।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগেই ’খেলশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করেছে সায়নীকে। এছাড়াও “মাদার টেরিজা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড" পেয়েছেন সায়নী। পঞ্চম সিন্ধু জয়ের কৃতিত্ব স্বরূপ সায়নী দাস এবার পেলেন ভারতের সর্বোচ্চ অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস সম্মান । ভারত সরকারের ’যুব বিষয়ক বিভাগ ও ক্রীড়া মন্ত্রক এই সম্মানের জন্য সায়নী দাসকেকে নির্বাচিত করে’।২০০২ সালে বাংলার সাঁতারু বুলা চৌধুরী পেয়েছিলেন তেনজিং নোরগে ন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার অ্যাওয়ার্ড। এর ২২ বছর বাদে বঙ্গের জলকন্যা সায়নী দাস এই অ্যাওয়ার্ড পেলেন। পুরস্কার হিসাবে বিভিন্ন উপহার ও স্মারকের সঙ্গে ১৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা।
পুরস্কার গ্রহণের জন্য এদিন লাল শাড়ি পরিহিত হয়ে একেবারে ষোল আনা বাঙালি সাজে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাবা রাধেশ্যাম দাস ও মা রূপালীদেবীকে সঙ্গে নিয়ে সায়নী পৌঁছে গিয়েছিলেন দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন লাগোয়া গণতন্ত্র ভবনে।সায়নী জানান, "এই পুরস্কার পেয়ে আমি অনুপ্রাণিত। পুরস্কার অর্থ আমার প্রভূত উপকারে লাগবে। আর এক সিন্ধু জয়ের জন্য স্পেনে যেতে অর্থ আর আমার বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।"