দ্য ওয়াল ব্যুরো: মায়ের দুধ (breastfeeding) ছাড়া কী করে শিশু (child) বাঁচে? মাতৃদুগ্ধেই আছে তার বেড়ে ওঠার জীবনরস। এই সত্যকেই তুলে ধরে কর্নাটক হাইকোর্টের (karnataka high court) বিচারপতি কৃষ্ণ এস দীক্ষিতের সিঙ্গল বেঞ রায় দিল, সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো একজন স্তন্যদানকারী মায়ের (lactating mother) সংবিধানে সুরক্ষিত অবিচ্ছেদ্য মৌলিক অধিকার (fundamental right)।
জনৈক হুসনা বানুর সদ্যজন্মানো বাচ্চাকে বেঙ্গালুরুর এক মেটারনিটি হাসপাতাল থেকে চুরি করে কোপ্পাল শহরের নিঃসন্তান মহিলা অনুপমা দেশাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। হুসনা সন্তানের অধিকার চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তৃষ্ণার্ত শিশুর মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার অধিকারের সঙ্গে মায়ের অধিকার মিলিয়ে বিচার করা উচিত। ভারতীয় সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারের তালিকায় সুরক্ষিত জীবনের অধিকারের আওতায় স্তন্যদানকারী মা আর স্তন্যপানকারী শিশু-দুজনের দাবিই মান্যতা পেয়েছে।
সভ্য সমাজে বাচ্চা চুরি করে বেচে দেওয়ার ঘটনা হওয়া উচিত নয় বলে অভিমত জানিয়ে আদালত বলেছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক। দুধের শিশুটি বিনা দোষে মায়ের বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তার স্তন্যদানকারী মায়েরও এখনও পর্যন্ত তাকে কাছে পাওয়ার সুযোগ মেলেনি।
পালিত মা বাচ্চাটিকে তার কাছে রেখে দেওয়ার অনুমতি চেয়ে সওয়াল করেন, এক বছরের বেশি তিনি বাচ্চাটিকে যত্ন করে বড় করেছেন। কিন্তু আদালত তাঁর যুক্তিকে মাতৃত্বের মূল ধারণাই পরিপন্থী বলে জানিয়ে দেয়। বিচারপতি দীক্ষিত বলেন, শিশুরা গবাদি পশু নয় যে, তাদের জন্মদাত্রী মা আর অপরিচিত কারও মধ্যে ভাগাভাগি করা যায়।
যদিও আদালত সন্তানকে কাছে পাওয়ার বাসনায় ব্যাকুল দুই মহিলারই প্রশংসা করেন, বিশেষ করে বাচ্চাটির আসল মায়ের, যিনি জানান, পালিত মা যখনই মন চাইবে, তখনই বাচ্চাটিকে দেখতে আসতে পারেন। আদালত বলেছে, দুই ভিন্ন ধর্মীয় প্রেক্ষাপট থেকে আসা দুজন মহিলার এমন দয়ামিশ্রিত আচরণ আজকের যুগে বিরল। ফলে একটি দুধের শিশুর অধিকার চেয়ে আইনি লড়াইয়ের চিরতরে মধুর পরিসমাপ্তি হল এখানেই।