দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রশ্ন ছিল শ্রেণি অবস্থান কী হবে তা নিয়ে। মুম্বইয়ে (Mumbai) বিশিষ্টজনদের সেই সভায় সমাজকর্মী মেধা পাটেকরের প্রশ্নের জবাবে শ্রেণি সঙ্ঘাতের পথে না হেঁটে শ্রেণি সমঝোতার বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দিদির সহজ কথা, “দেশে আদানি-আম্বানিও চাই, আবার কিষাণও চাই। হিন্দুও চাই, মুসলিমও চাই। শিখ ও চাই, জৈনও চাই। হিন্দু বৌদ্ধ শিখ জৈন পারসিক…!”
এদিন মেধা পাটেকর মমতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন সরকারী সংস্থার বেসরকারিকরণ, বিলগ্নিকরণ নিয়ে। সেইসঙ্গে দিদির উদ্দেশে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের পুরোধা নেত্রী বলেন, উদার অর্থনীতি, বেসরকারিকরণ, বাণিজ্যিকিকরণ—গোটা সিস্টেমের আমূল বদল ঘটিয়ে দিচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রে কর্পোরেট পুঁজির অনুপ্রবেশও গোটা ব্যবস্থাকে সংকটের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে আপনার ভাবনা কী? কোন পথে এগোবেন?
মেধা হয়তো ভেবেছিলেন, কৃষকের জমি জবরদখলের বিরুদ্ধে যে নেত্রী টাটার মতো সংস্থাকে পশ্চিমবঙ্গের মাটি ছাড়তে বাধ্য করিয়েছিলেন, ২৩৫-এর বামফ্রন্টকে সপ্তমেই থামিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি তেমনই বলবেন যা মেধা চান । কিন্তু তা হল না। মমতা বুঝিয়ে দিলেন, তিনি বৃহৎ কর্পোরেটের বিরুদ্ধে নন। সবাইকে দরকার দেশ চালাতে গেলে। আরও বেশি কর্মসংস্থান, আরও বেশি শিল্পায়ন জরুরি। তাই আদানি-আম্বানিও চাই, কিষাণও চাই। মমতা স্পষ্ট করে এও বলেছেন, কোনও ভাবেই গরিব মানুষের খারাপ তিনি হতে দেবেন না। তাঁদের যাতে ভাল হয় সেটাই তাঁর লক্ষ্য।
আরও পড়ুনঃ
শোভন তিন সন্তানের বাবা! বৈশাখীর সঙ্গে সিঁদুরখেলাকে কি স্বীকৃতি দিচ্ছেন প্রাক্তন মেয়র?
এদিনের বৈঠকে অন্যন্য প্রসঙ্গে মমতার প্রশংসাই করেন মেধা। যে ভাবে তিনি বাংলায় জমি আন্দোলন করেছিলেন, তাঁর সরকারের প্রকল্পগুলি যে ভাবে গরিব মানুষকে সহায়তা দিচ্ছে সেসবের উল্লেখ করেন প্রবীণ এই সমাজকর্মী। সেইসঙ্গে মমতার উদ্দেশে মেধা এও বলেন, তৃণমূলনেত্রী যে ভাবে শ্রমজীবী মানুষের লড়াইয়ে বুদ্ধিজীবীদের সম্পৃক্ত হওয়ার কথা বলেছেন তাও গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে। তবে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবেই মমতা আগামীর রূপরেখা বললেও একাধিক ক্ষেত্রে স্পষ্ট করলেন না। শুধু বললেন, আগে বিজেপি হঠুক। তাহলেই দেখবেন সব সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে।
যদিও আদানি-আম্বানিদের বিষয়ে মমতার এই নরম মনোভাব নিয়ে সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য বৃন্দা কারাট বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা মুখোশ নিয়ে রাজনীতি করেন। মাঝেমধ্যেই তা খসে যায়। বড় কর্পোরেটদের বিরুদ্ধে তাঁর সরব না হওয়ার পিছনে তাঁর রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কারণ ওঁর দলের সিন্দুকের চাবিকাঠিই তো ওঁদের হাতে। ফলে বলবেন কী করে!”
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'