দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাভ জেহাদ (love jihad) ইস্যু তো ছিলই, বিজেপির (bjp) হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছেন কেরলের ক্যাথলিক বিশপ জোসেফ কাল্লারাঙ্গাট (catholic bishop)। নার্কোটিকস জেহাদ বা মাদক জেহাদ (narco terrorism)। জোসেফ বৃহস্পতিবার দাবি করেন, কেরলে খ্রিস্টান যুবতীরা লাভ ও মাদক জেহাদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। যেখানে অস্ত্র কাজে লাগছে না, সেখানে মৌলবাদী কট্টরপন্থীরা অন্য ধর্মের যুবসমাজকে ধ্বংস করতে এহেন কৌশল নিয়েছে।
বিজেপি মুখপাত্র টম ভাডাক্কানের দাবি, কেরলের পালার বিশপ, মহামান্য জোসেফ কাল্লারাঙ্গাটের বক্তব্য শুধুমাত্র তাঁর ডায়োসিসের কাছেই হুঁশিয়ারি নয়, গোটা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বক্তব্য, যারা লাভ জেহাদ, মাদক- সন্ত্রাসবাদের শিকার! লাভ জেহাদ, মাদকাসক্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলি পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও কেরল সরকার মাদক সন্ত্রাসবাদ, লাভ জেহাদকে মানতেই চাইছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন চার্চের ভক্তদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে বিশপ কাউন্সিল প্রসঙ্গটি তুলেছে বলে জানান তিনি। কাউন্সলের অভিযোগ, অল্পবয়সি খ্রিস্টান মেয়েরা লাভ জেহাদের শিকার, তাদের ঠিকানা হচ্ছে বিদেশের জেল! এটাকে মানব পাচার বলে গণ্য করতে হবে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি পরিবারে শান্তি নষ্ট করছে, আর্থ-সামাজিক সমস্যা চরমে উঠছে। ভাডাক্কান বলেন, কেন্দ্রীয় সরকাররকে বলব, এধরনের লোকজনকে অভিযুক্ত করতে কেন্দ্রীয় আইন চাই, (central law) লাভ জেহাদ, মাদক-সন্ত্রাস মোকাবিলায় ফাস্ট ট্রাক কোর্টও তৈরি হোক।
কেরল বিজেপির তরফে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়ে জেহাদি কার্যকলাপ রোধ, ওই বিশপ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জর্জ ক্যুরিয়েন, যিনি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন, শাহকে লিখিত ভাবে জানিয়ছেন, কেরলে জেহাদি শক্তিরা সিপিএম, কংগ্রেসের প্রত্যক্ষ মদত পাচ্ছে। অনেক জেহাদিই সিপিএম, কংগ্রেসের কর্মী। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চাইছি।
বিশপের বক্তব্য রাজ্যের খ্রিস্টান, হিন্দুদের আতঙ্ক, ভয়ের প্রতিফলন বলেও দাবি করেন তিনি।
যদিও কংগ্রেস, সিপিএম উভয়েই বিশপের মন্তব্যে, বিজেপির তত্পরতায় ক্ষুব্ধ। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের দাবি, মাদক সমস্যায় রাজনৈতিক রং দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশনও সঙ্ঘ পরিবারের নিন্দা করে বিশপের মন্তব্যকে ইস্যু করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে চায় বলে অভিযোগ করেন। যদিও কেরল ক্যাথলিক বিশপ কাউন্সিল বিবৃতি দিয়ে বলেছে, তিনি কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে কথাগুলি বলেননি, নিজের গোষ্ঠীর উদ্বেগ তুলে ধরেছেন মাত্র। এ নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিতর্ক হোক না।
বিশপের পক্ষ নিয়ে কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ভি মুরলিধরনের দাবি, উনি নিজের সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কথাই বলেছেন, ওনাকে আক্রমণ করে চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে না।