
আসানসোল-দুর্গাপুরে বিজেপির বনধের ছবি
শেষ আপডেট: 28 August 2024 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: নবান্ন অভিযানে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তার প্রতিবাদে ১২ ঘণ্টা বাংলা বনধ ডেকেছে বিজেপি। বুধবার বনধ সফল করতে সকাল থেকে মাঠে নেমেছেন বিজেপি কর্মীরা। দিকে দিকে অশান্তির খবর আসছে।
পশ্চিম বর্ধমানে বিক্ষিপ্ত অশান্তি হয়। আসানসোল শহর, কুলটি, বার্ণপুর ও রানিগঞ্জে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, আসানসোল ও অন্য জায়গায় জোর করে বিজেপির নেতা ও কর্মীরা বনধ সফল করার চেষ্টা করেন। তাতে গন্ডগোল হয়।
এদিন সকালে কুলটির নিয়ামতপুরে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিল মুখোমুখি হলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পরে কুলটি থানা ও নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়।
অন্যদিকে, বার্ণপুরের ত্রিবেণী মোড়ে বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বাপ্পা চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপির নেতা ও কর্মীরা রাস্তা আটকান। রাস্তায় চেয়ার দিয়ে বাঁশের ব্যারিকেড দেওয়া হয়। খবর পেয়ে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের এসিপি (হীরাপুর) ঈপ্সিতা দত্তর নেতৃত্বে হীরাপুর থানার পুলিশ সেখান পৌঁছন। পুলিশ সেই অবরোধ তুলতে গেলে বিজেপি নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে বচসা হয়। পুলিশ পরে অবরোধকারীদের তুলে দেয়। এরপর বিজেপির জেলা সভাপতির নেতৃত্বে বিজেপির কর্মীরা মিছিল করে বার্ণপুর স্টেশনে যান। সেখানে তারা রেললাইনের উপরে দলের পতাকা লাগিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। বেশ কিছুক্ষণ বিজেপির নেতা ও কর্মীরা সেখানে ছিলেন। পরে তাঁরা আবার ত্রিবেণী মোড়ে ফিরে আসেন। তখন সেখান থেকে পুলিশ তাদের তুলে নিয়ে যায়।
এদিন রানিগঞ্জের বাসস্ট্যান্ডে বিজেপির কর্মী ও সমর্থকেরা রানিগঞ্জ শহর মণ্ডলের সভাপতির নেতৃত্বে বাস আটকান। তারা এদিন বাসস্ট্যান্ডের বিক্ষোভ শুরু করেন। বিজেপির বেশ কিছু কর্মী ও সমর্থক দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে বাসস্ট্যান্ডের সামনে রাস্তার ওপর বসে পড়েন।
এদিন আসানসোল শহরে বনধের তেমন কোনও প্রভাব চোখে পড়েনি। বেসরকারি বাস কম চললেও, টোটো, অটো ও অন্য গাড়ি চলাচল করছে। আসানসোল থেকে বিভিন্ন রুটে সরকারি বাস চলছে। সকালের দিকে বিজেপির নেতা ও কর্মীদেরকে আসানসোল শহরে দেখা যায়নি। সকাল দশটার পরে বেশকিছু কর্মী জিটি রোডের ভগৎ সিং মোড়ে রাস্তা অবরোধ করেন। তারা সরকারি ও বেসরকারি বাস আটকান। যাত্রীদেরকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দেয়। আসানসোলের এসবি গরাই রোড ও হটন রোড মোড় সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির কয়েকজন কর্মী দুটি ব্যাঙ্কের শাখায় এসে স্লোগান দেন। তারা ব্যাঙ্ক বন্ধ করতে বলেন। স্কুল ও কলেজে কোনও প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। পড়ুয়া, শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের উপস্থিতি ছিল অন্যদিনের মতো স্বাভাবিক। অফিস ও কাছারিতেও হাজিরা ছিল অন্যদিনের মতোই।
দুর্গাপুরে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার টিকিট কাউন্টারে ভাঙচুর চালায় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। বুধবার সকালে বর্ধমান-দুর্গাপুরের বিজেপির সহ সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে পথে নামেন। ঘুরতে ঘুরতে তাঁরা দুর্গাপুর স্টেশন বাজারে আসেন। সেখানে প্রথমে বিক্ষোভ দেখান। এরপর তাঁরা এসবিএসটিসির টিকিট কাউন্টারে ঢুকে পড়েন। সেখানে তখন বাসের টিকিট কাটার জন্য অনেক যাত্রীরা লাইন দিয়েছিলেন। এতে প্রতিবাদ করেন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা। কেন কাউন্টার খোলা রয়েছে তোলেন প্রশ্ন। এ নিয়ে কাউন্টারের কর্মীরা প্রতিবাদ জানালে তাঁরা নিজেরা কাউন্টারের জানলা বন্ধ করে দিয়ে তারপর সেই কাঁচের জানলা ভাঙচুর করেন। ঘটনার জেরে যাত্রীরা ভয় পেয়ে যান। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কোকওভেন থানার পুলিশ ছুটে আসে এলাকায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।