
বর্ধমান মেডিক্য়াল কলেজ
শেষ আপডেট: 27 September 2024 16:27
দ্য ওয়াল ব্য়ুরো: আরজি কর কাণ্ডের পরে থ্রেট কালচারের অভিযোগ উঠে এসেছে একাধিক মেডিক্যাল কলেজে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে বর্ধমান মেডিক্য়াল কলেজের। অভীক দত্ত, বিরূপাক্ষ বিশ্বাসদের নামে কলেজে ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এই আবহের মধ্যে ২০২১ সালে একটি ঘটনা সামনে উঠেছে।
তখন কোভিড পরিস্থিতি চলছে। অগস্ট মাস। শেখ মোবারক হোসেন নামে বর্ধমান মেডিক্যালের সার্জারি বিভাগের ২৩ বছরের এক জুনিয়র ডাক্তারের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি ছিল হস্টেল কর্তৃপক্ষের। যদিও মৃত জুনিয়র ডাক্তারের পরিবারের দাবি, মোবারককে খুন করা হয়েছিল।
কী ঘটেছিল? উত্তরে মৃত ডাক্তারি পড়ুয়ার দাদা শেখ ফিরোজ আহমেদের দাবি, তাঁর অনুমান ভাইকে মেরে ফেলেছিল। কারণ ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হলে মাটিতে দাগ থাকত। কিন্তু সেখানে কোনও চিহ্ন ছিল না। তাই পরিবার পক্ষ থেকে মামলাও করা হয়। কিন্তু তারিখের পরে তারিখ মিলেছিল। শুনানি হয়নি। কেন এতোবার শুনানি পেছালে তাও কারও জানা নেই।
পূর্বস্থলী-১ ব্লকের নাদনঘাটের নওপাড়ায় বাড়ি মোবারক হোসেনে। তাঁর বাবা শেখ হাফিজুল ইসলাম ব্যবসায়ী। মোবারক তিন ভাই-বোন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে ছোটো মোবারক। ইন্টার্নশিপ শেষ করার পরে কাউন্সিলিং হয়। ২০২১ সালে ১৬ অগস্ট হাউজস্টাফ হিসাবে কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই বছরের ১২ অগস্ট কলেজ হস্টেলের নীচে মোবারকের দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আত্মীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার আগের দিন রাতে অর্থাৎ ১১ অগস্ট এমডি হস্টেলে সিনিয়ররা একমাত্র মোবারককেই খাওয়া-দাওয়ার জন্য ডেকে ছিলেন। পরের দিন ভোরেই কলেজ হস্টেলের নীচে পড়ে থাকতে দেখা যায় শেখ মোবারককে। পরিবারের দাবি, রক্তাক্ত ডাক্তারি পড়ুয়াকে উদ্ধার করার সময়ে গায়ে শুধু অন্তর্বাস ছাড়া কিছু ছিল না।
মোবারকের বাবা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কোনও অ্য়ালকোহলের উপস্থিতি মেলেনি। ঘটনার তদন্ত করেছিল পুলিশ। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক বিভাগ গেছিল। ডামি পুতুল এনে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হয়। সিআইডির হাতে তদন্তভারও দেওয়া হয়। যদিও পরিবার সিবিআই তদন্তের দাবি তোলে। তবে আদালতেও তবে মামলা খুব বেশি দূর এগোয়নি।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে অ্যাসোশিয়েশন অফ হেল্থ সার্ভিসের রাজ্য যুগ্ম সম্পাদক ডাক্তার সুবর্ণ গোস্বামীর দাবি, এই ঘটনার সময় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন সুহৃতা পাল। অভীক দে ছিলেন ছাত্র নেতা।