.jpeg)
এই বাড়িতেই ভয়াবহ কাণ্ড
শেষ আপডেট: 15 January 2025 12:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান:দুই শিশু কন্যার সামনেই স্ত্রীকে খুন করে বাড়ির মধ্যে পুঁতে রেখে সেই ঘরেই শিশুকন্যাদের নিয়ে রাত কাটাল অভিযুক্ত স্বামী। হাড় হিম করা এই ঘটনা জানাজানি হতেই তুমুল শোরগোল পড়ল আউশগ্রামের যদুগড়িয়া গ্রামে।
স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে স্বামী সোম হাঁসদাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মৃতার নাম লক্ষ্মী হাঁসদা(২৭)। বছর সাতেক আগে সোম হাঁসদার সঙ্গে ভাব ভালোবাসা করে বিয়ে হয় লক্ষ্মীর। তাদের দুটি শিশু কন্যাও আছে। প্রথম জনের বয়স ৬ বছর ও ছোটটির বয়স সাড়ে তিন বছর।
ধৃত সোম হাঁসদার মা পানমনি হাঁসদা বলেন, "ছেলে প্রতিদিন মদ খেত। কাজকর্ম সেরকম করত না। বৌমা বাধা দিলে ঘরে অশান্তি করত। মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে বৌমাকে দেখতে না পেয়ে ছেলেকে জিজ্ঞেস করি বৌমা কোথায়। তাতে ছেলে জানায় মার খেয়ে পালিয়ে গেছে। সন্ধ্যায় বাড়িতে পুলিশ এসে ঘর থেকে মাটি খুঁড়ে বৌমার দেহ উদ্ধার করে। ছেলে সোমকেও ধরে নিয়ে যায়। সঙ্গে দুই নাতনিকেও নিয়ে যায় থানায়।
ওই দম্পতির বছর সাতেকের মেয়েই গোটা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ ধৃতকে বুধবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে। সোমবার রাতে সোম হাঁসদা স্ত্রী লক্ষ্মীকে খুন করে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ধৃতের মা পানমনি হাঁসদা আরো জানান, শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তাতেই তাঁর বৌমা মারা যায়। বাড়ির মেঝের মধ্যে মাটি খুঁড়ে মৃতদেহ মাটি চাপা দিয়ে রাখে।বাইরে থেকে কেউ যাতে কিছু বুঝতে না পারে তারজন্য দরজায় তালা দিয়ে রাখে। পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তালা ভেঙে মেঝের মাটি খুঁড়ে লক্ষ্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
জেলা পুলিশ সুপার সায়ক দাস জানান, পারিবারিক বিবাদে স্ত্রী খুন হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। দুটি বাচ্চাকে উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে শিশুকন্যাদের হোমে পাঠানো হবে কি না তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।