
শেষ আপডেট: 23 November 2024 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: মহালয়ার পর দেবীপক্ষে স্বপরিবার মর্তলোকে আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী দুর্গা। জঙ্গলে ঢাকা পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের সুকান্তপল্লী গ্রামের মন্দিরে ঘটা করে হয়েছিল আরাধনা। পুজো শেষে কৈলাশে ফিরে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু সুকান্ত পল্লিতে বড় বেকায়দায় পড়ে গেছেন দেবী।
বন দফতরের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে পুজো উদ্যোক্তারা কৈলাশে ফিরতে দেননি দেবীকে। বিজয়া দশমীর পর থেকে দেড় মাস কাটলেও ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুকান্তপল্লীর মন্দিরেই আটকা পড়ে রয়েছেন তিনি। নিত্য সেবায় ছেদ পড়েনি ঠিকই, কিন্তু আউশগ্রামের মন্দির থেকে কৈলাশে প্রত্যাবর্তন কবে করা যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। কিন্তু কেন তৈরি হল এমন অচলাবস্থা?
সুকান্তপল্লীর পুজো উদ্যোক্তারা জানান, প্রায় ১৪ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বন দফতরের অধীনে থাকা এই জায়গাতে তাঁরা দুর্গাপুজো করেন। চার বছর আগে এখানে একটি পাকা মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এ বছর দুর্গাপুজোর আগে মন্দিরের ছাদ ঢালাই হয়। পুজো উদ্যোক্তারা বলেন, মন্দিরটি সরকারি জায়গাতে হলেও বন দফতরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই তৈরি হচ্ছে মন্দিরটি । পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ বিশ্বাস, সীমা দত্ত রায়দের কথায়, "এখন বাইরের কিছু লোকের অঙ্গুলিহেলনে বন দফতর মন্দির নির্মাণের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আর সেই কারণেই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে, মন্দির ভেঙে ফেলা হতে পারে। এমন আশঙ্কাতেই দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে এখনও মন্দিরেই রেখে দেওয়া হয়েছে। নিত্য সেবা ও পুজো পাঠও হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ডিএফও শঞ্চিতা শর্মা বলেন, "মন্দির নির্মাণ নিয়ে আগে একটা রেজোলিউশন হয়েছিল, এ কথা ঠিক। তবে ওই রেজলিউশন নিয়ে এলাকার বহু লোকের আপত্তি আছে। আমার কাছে অনেক অভিযোগও এসেছে। এইসব কারণে মন্দিরের পরবর্তী নির্মাণের কাজ এখন স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। সব পক্ষের সম্মতি না মিললে বন দফতরের জায়গায় কোনও নির্মাণ হলে তা অবৈধ নির্মাণ বলে গণ্য হবে। আমারা চাইছি, জটিলতার নিষ্পত্তির জন্য সব পক্ষের সম্মতিতে একটা রেজিলিউশন হোক।তবে পুজো উদ্যোক্তারা প্রতিমা নিরঞ্জন করতেই পারে। নিরঞ্জন নিয়ে আমাদের আপত্তি করার কিছু নেই।"
কিন্তু দেবী দুর্গার প্রতিমা আঁকড়েই এখন মন্দির বাঁচানোর লড়াই চালাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ।