দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে (mundra port) দুটি কন্টেনারে গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রায় ৩ হাজার কেজি হেরোইন (heroine) বাজেয়াপ্ত হওয়ায় দেশব্যাপী শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। মুন্দ্রা বন্দর চালায় আদানি শিল্পগোষ্ঠী (adani)। ওই বিপুল পরিমাণ মাদকের কনসাইনমেন্ট এসেছিল আফগানিস্তান (afghanistan) থেকে, যারা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আফিম উত্পাদনকারী দেশগুলির অন্যতম। মুন্দ্রা বন্দরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মুম্বই-গোয়া প্রমোদতরীতে মাদক পার্টি থেকে ধরা পড়েন শাহরুখ খান পুত্র আরিয়ান খান। আদানিদের পরিচালিত মুন্দ্রা বন্দর থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বলে শোনা গিয়েছিল। আদানিরা সোমবার ঘোষণা করল, ১৫ নভেম্বর থেকে ইরান (iran), পাকিস্তান (pakistan), আফগানিস্তান থেকে আসা কোনও কন্টেনারভর্তি এক্সিম (এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট) কার্গো (cargo) অর্থাত্ মালপত্র তারা সামলাবে না। পরবর্তী নোটিস জারি হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত আপসেজ পরিচালিত সব টার্মিনাল ও যে কোনও আপসেজ বন্দরে তৃতীয় পক্ষের টার্মিনালের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে একথা।
প্রসঙ্গত, প্রক্রিয়াকরণ না হওয়া ট্যালক পাউডারের বড় বড় ব্যাগে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ওই হেরোইন। ব্যাগের একেবারে নীচে হেরোইন রেখে তার ওপর ট্যালক পাথর থরে থরে বসিয়ে রাখা হয় যাতে তা ধরা না পড়ে। কাস্টমস ও ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইনটেলিজেন্স বা রাজস্ব গোয়েন্দা কর্তারা যৌথ অভিযান চালিয়ে হেরোইন উদ্ধার করেন। দেশব্যাপী দফায় দফায় তল্লাসি অভিযান চালিয়ে আফগান ও উজবেক নাগরিক সহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। মাদক উদ্ধার হওয়া নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রবল সমালোচনার মুখে আদানি গোষ্ঠী সাফাই দেয়, তাদের কন্টেনার পরীক্ষা, নজরদারির কোনও অধিকার নেই। বিবৃতিতে তারা বলে, দেশের কোথাও কোনও বন্দর অপারেটর কন্টেনার পরীক্ষা করে দেখতে পারে না। তাদের ভূমিকা শুধুমাত্র বন্দর চালানোতেই সীমিত। আপসেজও পোর্ট অপারেটর যারা শিপিং লাইনকে পরিষেবা দেয়। মুন্দ্রা বা আমাদের যে কোনও বন্দরের টার্মিনাল দিয়ে যে লক্ষ লক্ষ টন টন কার্গো, কন্টেনার বেরিয়ে যাচ্ছে, তার ওপর নজরদারি, তল্লাসির কোনও এক্তিয়ার নেই আমাদের। এই বিবৃতিতে সোস্যাল মিডিয়ায় আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা, বিদ্বেষমূলক প্রচার চলছে, এই বিবৃতিতে তার অবসান হবে বলে আমাদের আন্তরিক বিশ্বাস।