
শেষ আপডেট: 31 October 2024 19:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: ১৬ বছরের ছাত্রীকে ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠল কোচিং সেন্টারের অঙ্কের স্যারের বিরুদ্ধে। থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই কোচিংয়ের ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান থানা এলাকায়। যদিও শিক্ষককের উপর ওঠা অভিযোগ মানতে চাইছেন না বাকি অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ ওই শিক্ষককে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষককের নাম শুভব্রত দত্ত। বীরভূমের সাঁইথিয়া থানা এলাকায় তাঁর আদি বাড়ি। বর্তমানে তিনি বর্ধমান শহরের শাঁখারিপুকুর এলাকায় বরফকলের কাছে থাকেন। অভিযোগ পেয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পকসো আইনের ছয় ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ধৃতকে বৃহস্পতিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। মামলাটি পকসো আদালতের বিচার্য বিষয়। তাই বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ৬ নভেম্বর ধৃতকে পকসো আদালতে পেশের নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম। সেখানেই পুলিশি হেফাজতের আবেদনের শুনানি হবে। ধৃতের মেডিক্যাল পরীক্ষা করানোর জন্য এদিন আদালতে আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারী অফিসার। তা মঞ্জুর করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক স্টেট মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধানকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন সিজেএম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান থানা এলাকায় ওই ছাত্রীর বাড়ি। সে শুভব্রত কোচিং সেন্টারে পড়তে যেত। ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়ের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক দুর্ব্যবহার করতেন। কয়েকবার ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের মে মাসে ছাত্রীর সঙ্গে প্রথম ঘটনাটি ঘটে। এ বছরের অগস্ট মাসেও ছাত্রীর সঙ্গে এ ধরণের ঘটনা ঘটে। বুধবার মেয়ে পরিবারের লোকজনকে ঘটনার কথা জানায়।
এরপরই বুধবার বিকেলে কোচিং সেন্টারে চড়াও হন ছাত্রীর পরিবারের লোকজন। কোচিং সেন্টারে ব্যাপক গন্ডগোল হয়। অভিযুক্ত শিক্ষককে সেখানে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গন্ডগোলের খবর পেয়ে মহিলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় ধরে নিয়ে আসে।
ছাত্রীর বাবার দাবি, তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তার চিকিৎসাও চলছে। যদিও অঙ্কের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা এই গুরুতর অভিযোগ মানতে চাইছেন না বাকি পড়ুয়াদের অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি, মিথ্যে অভিযোগে ওই শিক্ষককে ফাঁসানো হচ্ছে। এদিন আদালত চত্বরেও বহু অভিভাবক হাজির হন। আইনি লড়াইয়ে শিক্ষকের পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।