
শেষ আপডেট: 22 January 2024 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে। তেঁতুলতলা বাজারের ওয়াকফ এস্টেটের বহুতল ছাত্রবাস গড়ে ওঠার স্বপ্নপূরণ হয়নি। নানা জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এতদিন। এবার সমস্যা কাটিয়ে তৈরি হতে চলেছে সেই বহু প্রতীক্ষিত ছাত্রাবাস।
বর্ধমান শহরে ওয়াকফ এস্টেটের উদ্যোগে এমন বহুতল ছাত্রাবাস এই প্রথম। রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু দফতরের অনুমোদন নিয়ে এই বহুতল ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে। এর জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ এসেছে। টেণ্ডার প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছে এস্টেট কমিটি। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তেঁতুলতলা ওয়াকফ এস্টেটের সভাপতি সেখ মোজাম্মেল হক একথা জানিয়েছেন।
২০১৩ সালে তৎকালীন রাজ্যে ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল গনি তেঁতুলতলা বাজার ওয়াকফ এস্টেটের ভবন সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তারপর আলাপ আলোচনা করে ওয়াকফ এস্টেট মতোয়াল্লি কমিটি তেঁতুলতলা বাজারে তাদের নিজস্ব পুরনো ভবন ভেঙে বহুতল ছাত্রাবাস নির্মাণের পরিকল্পার কথার প্রস্তাব দেয়। সেই প্রস্তাব জমাও দেয় তারা।
প্রকল্প অনুমোদন পায় ২০১৫ সালে। তারও দু'বছর বাদে ২০১৭ সালে ওই প্রকল্প পাঠানো হয় রাজ্য সংখ্যালঘু দফতরে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে বরাদ্দ টাকা পেতে বেশ কয়েক মাস কেটে যায়। সঙ্গে আরও কিছু কাজও ছিল। কিন্তু তাতে হাল ছাড়েননি ওয়াকফ বোর্ডের ১১ জন সদস্য। ২০১৩ সাল থেকে এক নাগাড়ে লেগে অবশেষে তাঁরা ছাত্রাবাস গড়ার দিকে এগিয়ে গিয়েছেন।
এই বহুতল ছাত্রাবাস গড়ে তুলতে খরচ হবে ৩ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। এই টাকার পুরোটাই বরাদ্দ করেছে সংখ্যালঘু দফতর। এরই মধ্যে প্রকল্প রূপায়ণের জন্য পূর্ব বর্ধমান জেলা পূর্ত দফতরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার পরে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারকে। প্রাথমিক ভাবে কাজ শুরু হয়েছে।
এই এলাকায় ওয়াকফ এস্টেট মোট ২২ কাটা জায়গা আছে। তার মধ্যে ৪ কাটা জায়গাতে এই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে নির্মাণ স্থান খালি করার জন্য দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। একবছরের মধ্যে তাঁদের নতুন করে দোকান ঘর দিয়ে দেওয়া হবে। তার জন্য কোনও বাড়তি টাকা নেওয়া হবে না। এক বছর তাদের কাছে ওয়াকফ এস্টেট কোনও ভাড়া নেবে না। বহুতল ছাত্রাবাস সংখ্যালঘুদের জন্য পূর্ব বর্ধমান জেলার বৃহত্তম প্রকল্প। পাঁচতলা পর্যন্ত ছাত্রাবাসে থাকবে ৭২টি শয্যা। এই ভবন নির্মাণের জন্য দেড় বছর সময় ধার্য আছে।