
শেষ আপডেট: 21 March 2024 16:13
সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়, উত্তর ২৪ পরগনা
সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই ছাত্রীকে স্কুল থেকে বার করে দেওয়া হবে। এমনই সিদ্ধান্ত নিল বারাসতের কালীকৃষ্ণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মৌসুমী সেনগুপ্ত পড়ুয়াদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানান, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স হ্যান্ডেল-সহ তিন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও ছাত্রীর কোনও অ্যাকাউন্ট থাকবে না। এই কথা অমান্য করলে বিদ্যালয় থেকে ছাত্রীকে বের করে দেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষিকার এই নির্দেশ জানার পরেই আলোড়ন পড়ে যায়। ছাত্রীদের একটা বড় অংশই অবশ্য এই ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকার পাশে দাঁড়িয়েছে। হোয়াটস-অ্যাপ গ্রুপে প্রধান শিক্ষিকার এই নির্দেশ পাওয়ার পরেই যাদের অ্যাকাউন্ট ছিল, তারা তড়িঘড়ি অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে। তবে বড়দির পদক্ষেপে তারা যে কেউ অখুশি নয়, সেটাও জানিয়ে দেয়। ক্লাস নাইনের এক ছাত্রী বলে, "ঠিক কাজ করেছেন বড়দি। আমাদের মতো ছোট বয়সে কারও সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট থাকা উচিৎ নয়।" তবে তার কেন অ্যাকাউন্ট ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরে ওই ছাত্রী বলে, "কতটা ক্ষতি হতে পারে আমি বুঝতে পারিনি। ছোট ছিলাম।"
অভিভাবকরাও স্কুলের এই নির্দেশে খুশি। তাঁরা বলেন, "এমন নির্দেশ খুবই জরুরি ছিল। ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে কোনও সোশ্যাল মিডিয়াতেই কারও অ্যাকাউন্ট খোলা উচিৎ নয়। স্কুলে পড়ার বয়সে কারও কোনও ম্যাচিওরিটি থাকে না। ভুল পথে যাওয়ার সমস্ত সম্ভাবনা থাকে। ছোটদের ভালর কথা ভেবে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাকে স্বাগত জানাচ্ছি।"
স্কুলের ছাত্রী ও অভিভাবকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, নানা কটাক্ষে ভরেছে সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল। বিষয়টিকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ কালীকৃষ্ণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মৌসুমী সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, "যা করেছি আমার মেয়েদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবে করেছি। তবে এটা আমার একার সিদ্ধান্ত নয়, এটা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত। তবে এটা ঠিক, বিষয়টি আমিই তাদের মাথায় ঢুকিয়েছি। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকের গতিবিধি আমার ভাল লাগেনি। এতে তাদের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। সব চিন্তা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।"