.webp)
দুই সজল ঘোষ।
শেষ আপডেট: 15 May 2024 20:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুকুমার রায় লিখেছিলেন গোঁফের আমি গোঁফের তুমি গোঁফ দিয়ে যায় চেনা! যদিও দৈনন্দিন জীবনে গোঁফ নয়, নাম দিয়েই চেনাশোনার ব্যাপারটা মেটানো হয়।
অনেকে যদিও বলেন, নামে কী বা আসে যায়, কাজই হল আসল বিষয়! কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই ক্ষেত্র বিশেষে নামে অনেক কিছু আসে যায়! সেটা যদি ভোটের ময়দানে একই এলাকায় হুবহু একই নামের দু'জন প্রার্থী হয় তাহলে তো সোনায় সোহাগা!
বাস্তবে তেমনটাই হয়েছে বরাহনগর বিধানসভার উপ নির্বাচনে। আগামী ১ জুন লোকসভা ভোটের শেষ দফায় ভোট হবে বরাহনগরে। গত দেড় মাস ধরে মাটি কামড়ে প্রচার সারছেন কলকাতা পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ, তৃণমূলের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের তন্ময় ভট্টাচার্য। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার অর্থাৎ ১৪ মে। তারপরই সামনে এসেছে আরও এক সজল ঘোষের নাম। তিনিও প্রার্থী।
তারপর থেকেই শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি প্রার্থী সজলের অভিযোগ, "নির্বাচনে হারার ভয়ে তৃণমূল হুবহু আমার নামের ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে।" অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূল বলছে, একুশের ভোটে ৩৫ হাজার ভোটে লিড ছিল। এবারে ব্যবধান আরও বাড়বে।
যদিও শাসকের বিরুদ্ধে ডামি প্রার্থী দাঁড় করানোর অভিযোগে সরব গেরুয়া শিবির। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "হেরে যাওয়ার ভয়ে তৃণমূল ডামি ক্যান্ডিডেট দাঁড় করিয়েছে। তবে লোক সিম্বল দেখে ভোট দেবে। এসব ডামি দাঁড় করিয়ে কোনও লাভ হবে না। ফল অশ্বডিম্ব হবে।"
২০১১ সাল থেকে বরাহনগরের বিধায়ক ছিলেন তাপস রায়। লোকসভা ভোটের মুখে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন তাপস। এবারে উত্তর কলকাতা লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটেও লড়ছেন তিনি। এলাকায় তাপসের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। বিজেপি এবার তাপসের আসনে সজল ঘোষকে প্রার্থী করেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সজল প্রার্থী হলেও আদতে বকলমে লড়ছেন উত্তর কলকাতার দাপুটে নেতা তাপসই। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, অভিনেত্রী সায়ন্তিকাকে দাঁড় করিয়েও ভরসা পাচ্ছে না তৃণমূল। সে কারণে একেবারে শেষ লগ্নে সজল ঘোষের নামেই আর একজনকে নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা করিয়েছে।
যদিও নির্দল সজলের দেখা মেলেনি। জানা যায়নি তাঁর প্রতিক্রিয়াও। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাঝে নেট দুনিয়ায় ভাসছে কৌতূকও, "এই সজল যদি ডামিও হয়ে থাকে, তাহলেও যারাই করে থাকুক না কেন বুদ্ধির তারিফ করতেই হয়। কারণ, প্রায় ২ লাখ ভোটারের মধ্যে একই নামের দু'জনকে খুঁজে বের করতেও যথেষ্ট এলেম লাগে!"