
শেষ আপডেট: 8 February 2024 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিবিআইয়ের পর এবার ইডি। প্রাথমিকের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে ইডি দফতরে এলেন পার্থ ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার বেলা সওয়া ১১টা নাগাদ দু'জন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সিজিও-তে প্রবেশ করেন তিনি। সাংবাদমাদ্যমের কাছে বাপ্পাদিত্যর দাবি, "ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট এবং আয়কর রিটার্ন চাওয়া হয়েছিল। সেগুলো জমা দিতেই এসেছি।"
ইডি সূত্রের অবশ্য দাবি, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একাধিক সাক্ষীরা জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিল বাপ্পাদিত্য। তাই নিয়োগ মামলায় তাঁর যোগ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
নিয়োগ মামলার তদন্তে নেমে গত বছরের ডিসেম্বরে বাপ্পাদিত্যর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। পাঁচ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য উদ্ধার করা হয়েছিল বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর।
এর আগে নিয়োগ মামলায় গত ২৫ জানুয়ারি বাপ্পাদিত্যকে তলব করেছিল সিবিআই। জেরা শেষে সন্ধেয় বাপ্পাদিত্য দাবি করেছিলেন, "পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে কে কে আসতেন, সেটা তদন্তকারীরা জানতে চেয়েছিলেন। আমি যা যা জানি সব বলেছি।"
কে এই বাপ্পাদিত্য?
দক্ষিণ কলকাতা ও শহরতলির রাজনীতিতে বাপ্পাদিত্যকে সকলেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভাবশিষ্য বলেই জানতেন। পার্থ যে সংস্থায় কর্মরত ছিলেন, সেখানেই কাজ করতেন বাপ্পাদিত্য। পার্থই তাঁকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন। শুধু তা নয়, একদা তৃণমূলের মহাসচিবের সুপারিশেই কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জোড়াফুলের প্রার্থী হন বাপ্পাদিত্য। তার পর ভোটে জিতে পাটুলি, বৈষ্ণবঘাটা, ফুলবাগান এলাকার কাউন্সিলর তিনি।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাপ্পাদিত্যর শুধু রাজনৈতিক সম্পর্কই ছিল না। বেআইনি লেনদেনের ব্যাপারেও তাঁর ভালমতো যোগসাজস ছিল বলে অভিযোগ। এর আগে আইকোর চিট ফান্ড কাণ্ডে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে নোটিস পাঠিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। অভিযোগ ছিল, আইকোর কর্তাকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন বাপ্পাদিত্যই। নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের পুজোয় মোটা অঙ্কের চাঁদা দেওয়া ছাড়াও এই চিটফান্ড সংস্থার সঙ্গে পার্থ-বাপ্পাদিত্যর লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। সেই মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।