
জল খাওয়ার ঘণ্টা! প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 April 2024 14:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাজল ছুটির ঘণ্টা... না ঠিক ছুটির ঘণ্টা নয়। জল খাওয়ার ঘণ্টা। ওয়াটার-ব্রেক। ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রতি ক্লাসের শেষে বা মাঝে সময় বুঝেই ঢং ঢং করে ঘণ্টা বাজছে। আর ছাত্রছাত্রীরা সঙ্গেসঙ্গেই ব্যাগ থেকে বোতল বের করে ঢকঢক করে জল খাচ্ছে।
কিছুদিন আগে এমন ছবি দেখা গিয়েছিল কেরল, ওড়িশার বিভিন্ন স্কুলে। গরম পড়তেই স্কুল কর্তৃপক্ষ চালু করেছিল ‘ওয়াটার বেল’। এই গরমে ছাত্রছাত্রীদের বারে বারে জল খাওয়াতেই এমন ব্যবস্থা। এবার একই ব্যবস্থা চালু হল বাঁকুড়ার স্কুলেও।
হাঁসফাঁস গরমে নাভিশ্বাস উঠছে বাংলার। রাস্তায় চাঁদিফাটা রোদ, ঘরে থাকলেও গরম হাওয়ায় তাপপ্রবাহের ঝাপটা ভালই মালুম হচ্ছে। বাইরে বেরোলে তো কথাই নেই। দরদর করে ঘাম বেরিয়ে শরীর যেন জলশূন্য হয়ে যাচ্ছে। প্রখর রোদ আর দাবদাহ শরীর যেন নিংড়ে নিচ্ছে। ডিহাইড্রেশনে ভুগছে বাচ্চা থেকে বুড়ো। এমন গা জ্বালা করা গরমে তাই বেশি করে জল খাওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তাররা। বাচ্চারা ঠিকমতো জল খাচ্ছে কিনা তার তদারকি করতে এবার আসরে নেমেছে বিভিন্ন স্কুল। বাঁকুড়া গার্লস প্রাইমারি স্কুলে চালু হয়েছে ‘ওয়াটার বেল।’ বেল বাজলেই ব্যাগ থেকে বোতল বের করে বা গ্লাস হাতে ঢকঢক করে জল খাচ্ছে বাচ্চারা।
স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বাঁকুড়ায় এখন দিনের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। রিয়েল ফিল ৪৫ ডিগ্রিরও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে বাচ্চারা রোদ মাথায় নিয়েই স্কুলে আসছে। বাইরে লু বইছে। রোদের তাতে অনেক বাচ্চাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। মাথা ঘোরা, বমি, পেট খারাপ হচ্ছে অনেকের। তাই এমন সময় বেশি করে জল খেতেই বলছেন ডাক্তাররা। স্কুলে থাকার সময়টুকু বাচ্চারা যাতে বারে বারে নিয়ম করে জল খেতে পারে তার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাঁকুড়া স্কুলের দিদিমণিরা বলছেন, সকাল ৭ টা ৪৫ এবং ৯ টা ১০ মিনিটে বেল বাজার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ছাত্রীরা জল খাচ্ছে। তারপর আবার ক্লাস শুরু হচ্ছে। দাঁড়িয়ে থেকে তদারকি করছেন শিক্ষিকারা।
কড়কড়ে গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। এখন দিনে ৩-৪ লিটার জল খেতেই হবে। বাচ্চারা বাড়িতে থাকলে অভিভাবকদের নিয়ম করে জল খাওয়ানোর কথা বলছেন চিকিৎসকরা। আর স্কুলের সময়টুকুতে বেশিরভাগ বাচ্চাই জলের বোতল থেকে নিয়ম করে জল খায় না। তাই এই সময়টাতে ছাত্রছাত্রীদের জল খাওয়ানোর দায়িত্বটা নিচ্ছে স্কুল। কেরল, তামিলনাড়ু, ওড়িশার অনেক স্কুলেই এই ব্যবস্থা চালু হয়ে গেছে। এবার বাংলার স্কুলগুলিতেও ওয়াটার বেল চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।