দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন কেবল জয় নয়, রীতিমতো ইতিহাসের মাইলফলক। প্রায় একশো শতাংশ আসন নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে গেল আওয়ামি লিগ। সেই সঙ্গেই, এই নিয়ে চতুর্থ বারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মসনদে বসতে চলেছেন শেখ মুজিবুর-কন্যা শেখ হাসিনা। যতগুলো আসনে ভোট গণনা চলছে বা শেষ হয়ে গিয়েছে, সেগুলোর মাত্র তিন-চারটি আসন ছাড়া বাকি সবগুলোতেই হয় বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন, নয় জয়ী হয়েছেন আওয়ামি লিগ পার্টি প্রার্থীরা। গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে ২ লাখ ৩২ হাজার ভোট পেয়ে রেকর্ড গড়েছেন হাসিনা। সেখানে বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী পেয়েছেন মাত্র ১২৩টি ভোট।
কুড়িগ্রাম-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, বরিশাল-৩ এই তিনটি আসনেও এখনও পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। শুধু বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন জয়ী হয়েছেন। কড়া রেষারেষি চলছে মৌলভীবাজার-২ আসনে। কিন্তু এখনও কোনও আসনেই বিএনপি প্রার্থীর জয়ের খবর আসনি। দিনাজপুর-৩, কুষ্টিয়া-১ এবং ৪, যশোর-১ এবং ৬, পটুয়াখালী-২ ও ৩, টাঙ্গাইল-৩, জামালপুর-৪, নেত্রকোনা-৩ এবং ৪, গোপালগঞ্জ-২ এবং ৩, মাদারীপুর-২, সিলেট১ এবং ৬, নোয়াখালী-৪ — এই আসনগুলোতেও ইতিমধ্যেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন আওয়ামি লিগ প্রার্থীরা।
রবিবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকেল ৪টে থেকে শুরু হয়ে যায় গণনাও। বাংলাদেশের সংসদে মোট আসন ৩০০। সরাসরি সাধারণ ভোটাররাই নির্বাচিত করেন এই আসনগুলির প্রার্থীদের। এর বাইরেও আরও ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। সাধারণ ভোটে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে এই ৫০টি আসনের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ৩০০টির মধ্যে ২৩৪টি আসন জিতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামি লিগ। এবারেও অন্যথা হলো না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আজ রবিবার রাতের মধ্যেই ভোটের ফলাফলের চিত্র মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই গণনার ট্রেন্ড আসতে শুরু করেছে। তবে কোথাও পুনর্গণনা হলে, সেখানকার চূড়ান্ত ফল বেরোতে দেরি হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
কিন্তু যা-ই হোক না কেন, আওয়ামি লিগ যে সরকার গড়ছেই, সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই কোনও মহলেই।