
লোকাল ট্রেনে সমস্যা হতে পারে - প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 August 2024 07:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি বাংলা বনধের ডাক দেওয়ার পর পরই মঙ্গলবার সন্ধেয় নবান্ন জানিয়েছিল রাজ্যকে স্তব্ধ করে দেওয়ার প্রয়াস সমর্থনীয় নয়। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, সরকার বনধ মানছে না। বুধবার জনজীবন সচল রাখা হবে। যানবাহণ চলাচলও স্বাভাবিক রাখতে হবে।
কিন্তু প্রশ্ন হল, রেল ও মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক থাকবে তো?
সরকার বনধের বিরোধিতা করায় সরকারি পরিবহণ সংস্থাগুলি বাস ও ফেরি চলাচল যে স্বাভাবিক রাখবে তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই। বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠনও শাসক দল প্রভাবিত। সুতরাং বেসরকারি বাসও কমবেশি চলবে। কিন্তু রেল ও মেট্রো রাজ্য সরকারের অধীন নয়। আজ জেলা ও মফস্বল এলাকায় বিজেপি রেল রোকোর চেষ্টা করবে বলে গেরুয়া দল সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে মেট্রো চলাচলেও বাধা দেওয়া হতে পারে। তার পর রেল কতটা উদ্যোগী হয়ে মেট্রো বা লোকাল ট্রেন চালাবে তা নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ রয়েছে। একটি সূত্রে খবর, মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানের জন্য বিজেপির অনুরোধে বেশ কিছু লোকাল ট্রেনের বগির সংখ্যা বাড়িয়েছিল রেল।
তবে বিজেপি সূত্রে বলা হচ্ছে, আন্তঃরাজ্য ট্রেন বা দূরপাল্লার ট্রেন আটকানোর চেষ্টা তাঁরা করবেন না। শাসক দলের সঙ্গে সংঘাত এড়ানোরও চেষ্টা করবেন। বুধবার ২৮ অগস্ট ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। এজন্য জেলা থেকে তৃণমূল কর্মীরা বাস, টেম্পো ও ছোটা হাতি করে কলকাতায় পৌঁছবেন। বিজেপি জেলা সংগঠনগুলিকে জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের গাড়ি আটকানোর চেষ্টা যেন না হয়।
মঙ্গলবার আলাপনবাবু জানিয়েছিলেন, বুধবার সবকিছু চালু থাকবে। সরকারি কর্মচারীদের প্রতি সরকারের নির্দেশ, অফিস কাছারিতে অবশ্যই স্বাভাবিকভাবে আসবেন। দোকানপাট খোলা থাকবে। সরকার তার জন্য সকল অনুকূল ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। কারও কোনও ক্ষতি হলে সরকার সেই দিকটাও দেখবে।
মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা আরও বলেছিলেন, “রাজ্যে দফায় দফায় অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। ছাত্রদের প্রতি সরকারে পূর্ণ সহানুভূতি রয়েছে। নির্যাতিতা ছাত্রীর উপর যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার সুবিচার সকলেই চাইছে। সিবিআইয়ের কাছে পূর্ণাঙ্গ এবং দ্রুততম নায্য তদন্ত ও সুবিচার চাওয়ার অধিকারও সকলেরই রয়েছে। কিন্তু জোর করে যেভাবে অচলাবস্থা তৈরি চেষ্টা হয়েছে বা হচ্ছে তা সরকার মেনে নেবে না।
তবে মুখ্য উপদেষ্টা যাই বলুন, লোকাল ট্রেন ও মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক না থাকলে জনজীবনে প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার রাজ্য সরকার সরকারি-বেসরকারি বাস চালিয়ে পরিস্থিতি কতটা সামাল দিতে পারে।