
ভোট পায়নি তাই জল বন্ধ-নিজস্ব চিত্র
শেষ আপডেট: 10 June 2024 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: চুঁচুড়া বিধানসভা এলাকায় ব্যান্ডেল পঞ্চায়েত। লোকসভা ভোটে এখানে হার হয়েছে তৃণমূলের। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এরই জেরে সোমবার জলের লাইন কেটে দিতে এসেছিল পঞ্চায়েতের কল মিস্ত্রি।
বন্ধ ডানলপ কারখানার শ্রমিক মহল্লার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই জলের কলের আবেদন করেছিলেন প্রশাসনের কাছে। তবে সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। এবার ভোটের সময় চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার ওই এলাকায় প্রচারে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ফের পানীয় জলের কল বসানোর আবেদন করেন। সেই মতো ভোটের দশদিন আগে বিধায়ক নিজের উদ্যোগে পুরসভার জলের লাইন থেকে একটি পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চায়েত এলাকার পুরনো ফ্যামিলি কোয়ার্টারের এস এম ব্লক পানীয় জলের কল বসিয়ে দেন। তীব্র গরমে কিছুটা স্বস্তি মেলে বাসিন্দাদের।
ব্যান্ডেল পঞ্চায়েতের তিন চারটি বুথ রয়েছে ডানলপের ভিতর। লোকসভা ভোটে হুগলি কেন্দ্রে তৃণমূলের তারকা প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেও চুঁচুড়া বিধানসভাতে হারতে হয় তাঁকে।সেই সঙ্গে হার হয়েছে ব্যান্ডেল পঞ্চায়েতের ওই কয়েকটি বুথেও। এরপরেই আজ পঞ্চায়েত থেকে কলের মিস্ত্রি গিয়ে ওই কলের সংযোগ বিছিন্ন করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে পড়েন।
মিস্ত্রিরা বলতে থাকেন, "পঞ্চায়েত থেকে কল খুলে নিতে বলা হয়েছে। আপনারা না খুলতে দিলে আমরা রিপোর্ট দেব।" অন্যদিকে বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, "বহু মানুষ এই একটি মাত্র কলের জল ব্যবহার করে। ভোটের আগে সব দেবে বলে আর ভোট মিটতেই সব নিয়ে নেয়,এটা মেনে নেওয়া যায় না।"
এক বাসিন্দা বলেন, "ভোটের আগে বলেছিল এক সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেকের বাড়ি জল পৌঁছিয়ে দেবো। আর ভোট মিটতেই বলা হচ্ছে ডানলপের লোকেরা তৃণমূলকে ভোট দেয়নি। তাই শাস্তি হিসেবে জল বন্ধ করে দেওয়া হবে। মানুষ একজন শত্রুকেও জল দেয়। কিন্তু এই জল নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে।"
বিজেপি হুগলি সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, "এটা তৃণমূলের দ্বারাই সম্ভব। ডানলপের মানুষ জনের দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের। ভোটের আগে বিধায়ক মশাই নিজেই বসিয়েছিলেন জলের কল।এখন ওই জায়গা থেকে বিজেপিকে ভোট দেওয়াতে কল খুলে নেওয়া হচ্ছে। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক।"
বিধায়ক অসিত মজুমদার জানান,এমন কোন কিছু তাঁর জানা নেই। তাঁর কাছে কেউ অভিযোগও করেনি। তিনি বলেন, "স্থানীয় মানুষ নয়, বিজেপির কিছু দালাল এমন বলছে। আদৌ এমন কিছু হয়নি।"
বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী বলেন, "যখন তীব্র পানীয় জলের সঙ্কট চলছে তখন নবান্ন থেকে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আমরা বাঁশবেড়িয়া পুরসভার লাগোয়া ব্যান্ডেল পঞ্চায়েতের ডানলপের ভেতর যারা থাকেন তাঁদের জন্য জল দেওয়ার ব্যবস্থা করি। সেই জলের সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। অনেক মানুষ তো তৃণমূলকে ভোট দেয়নি। তাবলে কি লক্ষীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে? সেরকম কোনও ব্যাপার নেই।কারা কল খুলতে এসেছিল সেটা বাসিন্দারা বলতে পারবেন।"